মহাকাশ ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় বাজেটে। রবিবাসরীয় সকালে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের ঘোষণায় জানা গেল, মহাকাশ ক্ষেত্রে ১৩ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। যা গত বছর ছিল ১১ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এবার মহাকাশ ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ বাড়ল ১৬৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মহাকাশ গবেষণায় থাকছে ৬ হাজার ১০৩ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ইসরো সব মিলিয়ে ২৩১টি বিষয়ে বড় পদক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে মিশন, পরীক্ষা, প্রযুক্তি প্রদর্শনের (যার মাধ্যমে অন্য দেশের উপগ্রহ উৎক্ষেপণের দায়িত্ব নেওয়া তথা মহাকাশে লগ্নি টানা লক্ষ্য) মতো নানা ক্ষেত্র রয়েছে। সব মিলিয়ে অন্তরীক্ষে ভারতের আর্থিক গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজেটেও একলাফে অনেকটা বাড়ানো হল বরাদ্দ।
মহাকাশ ক্ষেত্রে ১৩ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। যা গত বছর ছিল ১১ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এবার মহাকাশ ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ বাড়ল ১৬৯০ কোটি টাকা।
বলে রাখা ভালো, সারা পৃথিবীর নিরিখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম দেশ এখন ভারত। প্রথম প্রচেষ্টাতেই মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করতে পারা কিংবা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রথম নামা দেশ ভারতই। নাসা ও ইসরোর উদ্যোগে তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ ‘নিসার’ শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে মহাশূন্যে পাড়ি দিয়েছে। ভূপৃষ্ঠ, সমুদ্র, বরফ এবং অরণ্যের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করবে ১.৫ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) খরচে তৈরি নিসার। তবে এর নির্মাণ খরচের মধ্যে ৭৮৮ কোটি টাকা দিয়েছে ইসরো।
আপাত ভাবে এই বিনিয়োগ বিপুল অঙ্কের হলেও তা শেষপর্যন্ত ‘লাভদায়ক’ হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আগামী দিনগুলোয় মহাকাশে নতুন নতুন মাইলফলক ছুঁতে চাইছে ভারত। চাঁদের মাটিতে প্রথম ভারতীয়র পা পড়বে ২০৪০ সালের মধ্যে। তারও আগে ২০৩৫ সালের মধ্যেই মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করবে ভারত। আগেই এই ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবারের বাজেটে মহাকাশ ক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধি আরেকবার এই ক্ষেত্রে ভারতের উচ্চাভিসাষাকে বুঝিয়ে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
