'কংগ্রেসের সঙ্গে থাকাটা বিভীষিকাময় বিবাহিত জীবনের মতো। তাই বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়া উপায় ছিল না।' মজার ছলেই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে বিঁধলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া। 'হৃদয়ভঙ্গ' নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে রীতিমতো বড়সড় চিঠিও লিখে ফেলেছেন তিনি। রাজ্যসভা থেকে বিদায়বেলায় দুই বর্ষীয়ান সাংসদের রসিকতা নিয়ে নেটদুনিয়ায় চলছে জোর চর্চা।
বুধবার রাজ্যসভায় মল্লিকার্জুন খাড়গে, এইচ ডি দেবেগৌড়া, শরদ পওয়ারের মতো বর্ষীয়ান নেতাদের শেষদিন ছিল। বিদায়ী ভাষণ দিতে গিয়েই মজার ছলে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “দেবেগৌড়াজি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আরও বহুরকমভাবে দেশের সেবা করেছেন। কিন্তু একটা কথা, উনি আমাদের সঙ্গে প্রেম করলেন, আমাদের সঙ্গে ওঠাবসা করলেন, অথচ বিয়েটা করলেন মোদিজিকে।” আসলে কর্নাটকে একটা সময় কংগ্রেসের জোটসঙ্গী ছিল দেবেগৌড়ার দল জেডিএস। পরে তারা বিজেপির সঙ্গ নেয়। তাই নিয়েই ওই রসিকতা খাড়গের।
এদিন দেবেগৌড়া রাজ্যসভায় উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু খাড়গের এই মন্তব্যের জবাবে এক্স হ্যান্ডেলে বিরাট 'প্রেমপত্র' লিখেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। সাফ জানিয়েছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে খানিকটা জোর করেই সম্পর্ক ছিল। এবং সেটা খুবই বিভীষিকাময়। রীতিমতো অত্যাচারিত হতে হত। ফলে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াটাই ভবিতব্য ছিল। বাধ্য হয়েই ডিভোর্স করতে হয় দেবেগৌড়ার দল জেডিএসকে। এক্স হ্যান্ডেলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিয়ের' পর ২০১৯ সালে কংগ্রেস তাঁদের ত্যাগ করেছিল।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৯ সালে একের পর এক কংগ্রেস নেতা কীভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর 'অভিমান', যে নেতার হাত ধরে দল ভাঙানো হয়েছিল, তাঁর বিরুদ্ধে যদি কংগ্রেস সেসময়ে ব্যবস্থা নিত তাহলে সম্পর্ক শেষ হওয়ার কোনও কারণ থাকত না। খাড়গেও কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে সুবিধাজনক জায়গায় থাকতেন। চিঠির শেষে দেবেগৌড়ার 'অভিমানী আক্ষেপ', তিনি মোটেই কংগ্রেসকে ছেড়ে যাননি। বরং কংগ্রেসই সরে দাঁড়িয়েছিল। তাই ডিভোর্স ছাড়া অন্য উপায় ছিল না।
