ইসরো ছেড়েছেন ১০০ বিজ্ঞানী। গগনযান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থমকে রয়েছে। কিন্তু সেসব নিয়ে একেবারেই ভাবিত নয় কেন্দ্র! বিজ্ঞানীদের ছেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞানমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলছেন, এমন অনেকেই ইসরোয় আসেন আবার অনেকে চলেও যান। আলাদা কোনও তাৎপর্য নেই এই ঘটনার। যদিও প্রশ্ন উঠছে, বিজ্ঞানীদের চলে যাওয়ার তাৎপর্য যদি নাই থাকে তাহলে তাঁদের 'আটকানো'র জন্য কেন্দ্র নিয়ম বদলাচ্ছে কেন?
জানা গিয়েছে, অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর ১০০ জন বিজ্ঞানী স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ বিজ্ঞানী ভিক্টর জোসেফ টি। যিনি ভিএসএসসি-তে ‘জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল মার্ক ৩’ প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এহেন 'গণইস্তফা'র পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, ইসরো ছেড়ে কেন চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা? নেপথ্যে কী কারণ?
যদিও বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছাবসরকে মোটেই আমল দিতে চাইছেন না জিতেন্দ্র। প্রশ্ন শুনে তিনি বলছেন, "ইসরোয় প্রচুর মানুষ কাজ করেন। তাই যার খুশি যোগ দিতে পারেন, যার খুশি চলেও যেতে পারেন। আগেও এরকম অনেকে এসেছে-গিয়েছে।" তাহলে কেন বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছাবসরের নিয়ম বদল? কেন বিজ্ঞানীদের ইস্তফা গ্রহণ করা হবে না বলে জানাল কেন্দ্র? জিতেন্দ্রর জবাব, "প্রশাসনিক বিষয়গুলির কারণেই স্বেচ্ছাবসর নিয়ে নতুন নিয়ম চালু করা হচ্ছে। কারণ ইস্তফার আবেদন অনেক উচ্চতর পর্যায়ে খতিয়ে দেখা উচিত। এর নেপথ্যে আর অন্য কোনও কারণ নেই।"
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘গগনযান’ এবং অন্যান্য ‘গুরুত্বপূর্ণ মিশন’-এর সঙ্গে যুক্ত ‘গ্রুপ-এ’ পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কারিগরি কর্মীদের ঢালাও ইস্তফা গ্রহণ করা হবে না। এত দিন ইসরোর বিভিন্ন সেন্টারের ডিরেক্টররাই বিজ্ঞানীদের ইস্তফা গ্রহণ করতে পারতেন। নয়া নির্দেশিকায় তাঁদের সেই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ বার থেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কেবল কেন্দ্রীয় মহাকাশ বিভাগ। নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ মিশনের মাঝপথে লাগামছাড়া স্বেচ্ছাবসরের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ‘গগনযান’ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মিশন। বিষয়টি জাতীয় স্বার্থে আঘাত হানছে।
