সুপ্রিম কোর্টের পরে দিল্লি হাই কোর্টেও ধাক্কা খেলেন উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে (Unnao Case) দোষী সাব্যস্ত হওয়া প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার। উন্নাওয়ে ধর্ষিতার বাবার মৃত্যু হয়েছিল পুলিশ হেফাজতে। ওই মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদন করেছিলেন গেরুয়া নেতা। যদিও সোমবার দিল্লি হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতিরা বুঝিয়ে দিয়েছেন, 'সাজা হবেই'।
কেবল ধর্ষণের অভিযোগ নয়, ২০১৭ সালের ঘটনায় ধর্ষিতার বাবাকে পুলিশি হেফাজতে হত্যারও অভিযোগ উঠেছিল বাঙ্গেরমউ কেন্দ্রের চার বারের বিজেপি বিধায়ক (বর্তমানে দল থেকে বহিষ্কৃত) কুলদীপ সিং সেঙ্গারের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় ২০২০ সালের ১৩ মার্চ নিম্ন আদালত কুলদীপকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছিল। কুলদীপের ভাই অতুল সিং সেঙ্গার এবং আরও পাঁচজনের ১০ বছর কারাবাসের সাজা হয়েছিল। এই সাজাই স্থগিত করার আবেদন জানান সেঙ্গারের আইনজীবী।
কুলদীপ দাবি করেন, নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছেন তিনি। এই অবস্থায় তাঁকে জেলমুক্ত করা হোক। যেহেতু দীর্ঘদিন জেলবন্দি রয়েছেন তিনি, তাছাড়া শরীরও ভালো নেই। যদিও এযাত্রায় প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া কুলদীপের সাজা স্থগিত করে সম্প্রতি তাঁকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। সেই রায়ের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল সিবিআই। তাতে দিল্লি হাই কোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ জারি করে শীর্ষ আদালত।
প্রসঙ্গত, উন্নাওয়ে গণধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন সাজা পাওয়ার পরেও দিল্লি হাই কোর্ট কুলদীপের সাজা স্থগিত করে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়ায়। নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা দিল্লি হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের লোকজন বড় কোনও আইনজীবীর সাহায্য চেয়েছিলেন। এর পর সিবিআই-ই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সিবিআইয়ের এই পদক্ষেপেই স্বস্তির বদলে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন নির্যাতিতা ও তাঁর আইনজীবীরা। উন্নাওয়ের নির্যাতিতা প্রশ্ন তুলেছিলেন, “এতদিন সিবিআই কী করছিল?"
