ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে শুক্রবার বেআইনি ঘোষণা করেছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। খারিজ করেছে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের উপরে তাঁর বসানো যাবতীয় শুল্ককে। এতে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তিতে আদৌ প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে জল্পনার মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার।
শনিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, শুক্রবার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে যে রায় দিয়েছে, তা তারা 'নোট' করেছে। রায়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা-ও তাদের নজরে ছিল। প্রসঙ্গত, শীর্ষ আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের উপরে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক (গ্লোবাল) শুল্ক আরোপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিবৃতিতে বাণিজ্য মন্ত্রক বলেছে, "মার্কিন প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে। এই সমস্ত বিষয়গুলির কী প্রভাব হতে পারে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।"
১৯৭৭ সালে তৈরি করা যে আইনের (ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট বা আইইইপি) আওতায় ট্রাম্প আমদানি শুল্কের হার বাড়িয়েছিলেন, সেটির ব্যাখ্যা দিয়েই শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ওই আইন প্রেসিডেন্টকে এই অধিকার দেয়নি। এটি তাঁর এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ। কংগ্রেসের সায় ছাড়া অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে পারেন না তিনি। উল্লেখ্য, ওই আইনটি আমেরিকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা হলে ব্যবহার করার কথা। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে হতাশাজনক তকমা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘সিদ্ধান্তটি ভুল। তবে তাতে কিছু যায়-আসে না। আমাদের কাজ নিয়ে খুব গর্বিত।’’ শুধু তাই নয়, প্রায় সঙ্গে সঙ্গে জানিয়েছেন বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি থাকার কথা। এমনকি তার কিছু পরে খারিজ হওয়া শুল্কের জায়গায় কিছু ক্ষেত্রে ১৫০ দিনের জন্য ১০% শুল্ক বসানোর নির্দেশও দিয়েছেন। সঙ্গে এটাও বলেছেন যে, ‘‘আগামী দিনে শুল্ক থেকে আরও অর্থ আদায় করব। এই রায় ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।’’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর প্রশ্ন উঠেছে, বিভিন্ন দেশের থেকে আমেরিকা অতিরিক্ত যে শুল্ক আদায় করেছে, তার কী হবে? সেটা কি ফেরত দেবে ট্রাম্প প্রশাসন? সূত্রের হিসাব, তার অঙ্ক ১৭,৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। তবে ট্রাম্পের বার্তা, ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা উঠলে পাঁচ বছর ধরে মামলা চলবে। প্রশ্ন উঠেছে বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও। বস্তুত, চড়া শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেই বিভিন্ন দেশকে চুক্তিতে বাধ্য করেছেন ট্রাম্প। ভারতে মোট ৫০% শুল্ক চাপান তিনি। সম্প্রতি রাশিয়ার তেল না কেনার শর্তে তার হার ১৮ শতাংশে নামান। বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত করেন। এ দিন শুল্ক খারিজ হওয়ার পরে ওই চুক্তির যৌক্তিকতা নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কারও সঙ্গে চুক্তি বাতিল হবে না। ভারতের সঙ্গেও যেমন চুক্তি হওয়ার কথা, তেমনই হবে।
