অবসর ভেঙে কুস্তিতে প্রত্যাবর্তন করতে চেয়েছিলেন ভিনেশ ফোগাট। কিন্তু কুস্তির ম্যাট নয়, তাঁর আসল প্রতিপক্ষ হয়ে উঠল ফেডারেশন, রেফারি, পুলিশ সকলেই। আদালতের নির্দেশে শনিবার ভিনেশ নেমেছিলেন এশিয়ান গেমসের ট্রায়ালে। সেখানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বারবার হেনস্তার শিকার হলেন তিনবার অলিম্পিকে খেলা তারকা কুস্তিগির। কখনও তাঁর স্বামীর দিকে তেড়ে গেলেন কুস্তি ফেডারেশনের প্রধান, কখনও স্টেডিয়ামে ঢুকতে বাধা পেলেন ভিনেশ। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা তারকা খেলোয়াড়ের সঙ্গে এহেন আচরণ কেন?
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ স্টেডিয়ামে পৌঁছন ভিনেশ। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। সাতটার সময়ে তাঁর ওজন মাপার কথা ছিল, কিন্তু ভিনেশকে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। প্রায় দু'ঘন্টা বসিয়ে রাখার পর শুরু হয় ভিনেশের ওজন মাপার প্রক্রিয়া। সেখানেও ফেডারেশনের রোষে পড়তে হয় তারকা কুস্তিগিরকে। বলা হয়, প্যারিস অলিম্পিকে যেহেতু ৫০ কেজিতে লড়েছেন ভিনেশ, তাই ওই বিভাগেই লড়তে হবে তাঁকে। অথচ ভিনেশ ৫৭ কেজির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দীর্ঘ বাদানুবাদের পর ভিনেশকে ৫৩ কেজি বিভাগে নামতে দেওয়া হয়।
ভিনেশ যখন ম্যাটে নামছেন, তখন কুস্তি ফেডারেশনের প্রধান সঞ্জয় সিং-সহ একাধিক কর্তা উপস্থিত। রীতিমতো দলবল নিয়ে ভিনেশের বিরুদ্ধে তাঁরা গলা ফাটাচ্ছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে নিশুকে চিৎ করে দেন ভিনেশ, কিন্তু পয়েন্ট দেওয়ার বদলে রেফারি ম্যাচ থামিয়ে দেন। চিৎ করার পুরো পয়েন্ট মেলেনি, ভিনেশকে চার পয়েন্ট দেন রেফারি। ভিডিও রিভিউয়ের সময়ে স্ক্রিনও আচমকা বিকল হয়ে যায়। গোটা ঘটনা ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিনেশের স্বামীর দিকে তেড়ে যান সঞ্জয়। কোনওমতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফেডারেশনের একের পর এক বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত ওঠেন ভিনেশ। তবে প্রথম থেকেই তিনি খেলছিলেন রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে। কিন্তু সেমিফাইনালে এসে ভিনেশের রক্ষণ ভেদ করে ফেলেন মীনাক্ষী। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ভিনেশ হারলেন ৬-৪ ফলে। তবে এশিয়ান গেমসের স্বপ্ন শেষ হলেও হুঙ্কার দিয়ে ম্যাট ছাড়েন ভিনেশ। প্রশ্ন উঠছে, এত বড়মাপের খেলোয়াড়ের সঙ্গে কেন এমন আচরণ? অবসর ভেঙে ফিরতে চেয়ে কেন এমন অসহযোগিতার শিকার হলেন ভিনেশ?
