সময় সন্ধ্যা ৬টা। হঠাৎ সাইরেনের শব্দে কেঁপে উঠল গোটা উত্তরপ্রদেশ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্ধকারে ডুবে গেল রাজ্যের ৭৫টি জেলা। শুক্রবার এই ঘটনায় রীতিমতো উদ্বেগ ছড়াল যোগীরাজ্যে। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় বড়সড় কোনও হামলার আশঙ্কা করা হলেও পরে জানা গেল, জঙ্গি হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে মক ড্রিল চালানো হয়েছে গোটা উত্তরপ্রদেশে।
জানা গিয়েছে, এদিন সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয়ে ওঠে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ ও প্রশাসন। বরেলি, মিরাট, লখনউ, কানপুর-সহ রাজ্যের প্রধান শহরগুলির গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে নজরে পড়ে বিপুল সংখ্যায় পুলিশবাহিনী। পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্স, এডিএআরএফ, এনডিআরএফ, ফায়ার ব্রিগেড এবং স্বাস্থ্য বিভাগের দলগুলি অংশ নেয় এই মক ড্রিলে। বিশেষ এই অনুশীলনে সাধারণ মানুষ যাতে কোনওরকম সমস্যার মুখে না পড়েন তার জন্য আগেই এর ঘোষণা করা হয়েছিল।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা রাজ্যে এই মক ড্রিল চালানো হলেও জরুরি পরিষেবা অর্থাৎ হাসপাতাল, রেল স্টেশনগুলিকে এর বাইরে রাখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে এই মহড়া পরিচালনা করছিলেন উত্তরপ্রদেশের শীর্ষ আধিকারিকরা। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই মহড়া সম্পূর্ণরূপে সফল হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর ফের সমস্ত জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়।
উল্লেখ্য, কোনওরকম যুদ্ধপরিস্থিতি, বিমান বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তায় ব্ল্যাক আউট পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় শহরের সমস্ত আলো। যাতে শত্রুর নজর এড়ানো যায়। প্রশাসনের তরফে বার্তা দেওয়া হয়, জরুরি পরিস্থিতি এই সময়ে শহরবাসী যেন বাড়ির ভিতর থেকে না বের হন।
