দীর্ঘদিনের ‘বিমারু’ তকমা ঝেড়ে ফেলে উত্তরপ্রদেশ আজ দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি। শনিবার ‘উত্তরপ্রদেশ দিবস’ উপলক্ষে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। তাঁর দাবি, নীতিগত পঙ্গুত্ব এবং দীর্ঘ সংগ্রামের শৃঙ্খল ভেঙে রাজ্য আজ অমিত সম্ভাবনার পথে হাঁটছে। সমাজমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের আমূল পরিবর্তনের খতিয়ান তুলে ধরেন।
এ দিন যোগী জানান, উত্তরপ্রদেশ চিরকালই ভারতের সংস্কৃতি, সাহিত্য ও আধ্যাত্মিক চেতনার কেন্দ্রবিন্দু। অযোধ্যার মর্যাদা, কাশীর শাশ্বত চেতনা এবং ব্রজধামের ভক্তি ভারতের সাংস্কৃতিক জাগরণকে নতুন দিশা দেখিয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কড়া অনুশাসন এবং কার্যকর প্রশাসনের জেরে রাজ্যে আজ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত। ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিপি), স্টার্টআপ এবং শ্রম সংস্কারের মতো উদ্যোগগুলি উত্তরপ্রদেশের কুটির শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে বহুগুণ।
ইতিহাস বলছে, প্রাচীন বৈদিক যুগ থেকেই উত্তরপ্রদেশ ছিল ঋষিমুনিদের চারণভূমি। রামায়ণ ও মহাভারতের মতো মহাকাব্য এই মাটিরই অবদান। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের উত্থানও এই অঞ্চলেই।
মহিলা ক্ষমতায়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আকাশ, জল এবং স্থলপথের সংযোগ স্থাপনের ফলে রাজ্যে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত খুলেছে। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ আজ ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্ত রাজস্বের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। বিশৃঙ্খলা কাটিয়ে এই উৎসবের মেজাজই ‘বিকশিত প্রদেশ’ গড়ার হাতিয়ার।
ইতিহাস বলছে, প্রাচীন বৈদিক যুগ থেকেই উত্তরপ্রদেশ ছিল ঋষিমুনিদের চারণভূমি। রামায়ণ ও মহাভারতের মতো মহাকাব্য এই মাটিরই অবদান। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের উত্থানও এই অঞ্চলেই। ১৯৫০ সালে যুক্তপ্রদেশ নাম বদলে উত্তরপ্রদেশ হওয়ার পর থেকে আজ তা ভারতের হৃদয়স্থল। তাজমহল থেকে চিকনকারি— ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক উন্নয়নের মিশেলে যোগীর রাজ্য এখন নতুন এক ‘গোল্ডেন চ্যাপ্টার’ বা স্বর্ণালি অধ্যায় লিখছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, উত্তরপ্রদেশ এখন আর সমস্যার নয়, সমাধানের নাম।
