'মিলে সুর মেরা তুমহারা'র ধাঁচে দিল্লির কর্তব্য পথে (সাবেক রাজপথ) সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বাজল 'বন্দে মাতরম'। বিতর্ক এবং রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বন্দে মাতরম'-কে নতুন আঙ্গিক দিয়ে এ বছর সাধারণতন্ত্র দিবসের 'থিম গান' হিসাবে উপস্থাপন করল নরেন্দ্র মোদির সরকার। অনেকের অনুমান, চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটকে নজরে রেখেই এই সিদ্ধান্ত।
১৯৮৮ সালে তৈরি হয়েছিল ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’। সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ভীমসেন জোশী। কথা লেখেন পীযূষ পাণ্ডে। সেই গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, এম বালামুরলীকৃষ্ণর মতো শিল্পী। ভিডিওতে ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, মিঠুন, জিতেন্দ্র, হেমা মালিনী, শর্মিলা ঠাকুরের মতো তারকা। ১৯৮৮ সালের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরেই চালানো হয়েছিল ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’। দেশের ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক হিসাবে গানটি তৈরি করা হয়েছিল। এ বছর 'বন্দে মাতরম'-কে বেছে নেওয়ার কারণও একই।
১৯৮৮ সালের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরেই চালানো হয়েছিল ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’। দেশের ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক হিসাবে গানটি তৈরি করা হয়েছিল। এ বছর 'বন্দে মাতরম'-কে বেছে নেওয়ার কারণও একই।
প্রসঙ্গত, কিছু দিনে আগে 'বন্দে মাতরম' নিয়ে জোর বিতর্ক হয়েছিল জাতীয় রাজনীতিতে। গত মাসে শেষ হওয়া শীতকালীন অধিবেশনে 'বন্দে মাতরম' বিতর্কে গানটির রচয়িতা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করায় তৃণমূলের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিজেকে শুধরে নিয়ে পরে ‘বঙ্কিমবাবু’ বলে বিষয়টি সামলে নেওয়ার চেষ্টা প্রধানমন্ত্রী করলেও, এ নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে রাজ্য বিজেপি। তৃণমূলের অভিযোগ, বঙ্কিম-অস্ত্রে শান দিয়ে বাংলা জয়ের চেষ্টা করছে বিজেপি। কিন্তু তা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে তারা!
সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজেও সেই বন্দে মাতরমকে অন্যতম মূল থিম হিসাবে তুলে ধরা হল। বন্দে মাতরমের প্রথম স্তবকগুলির ভাবনা শিল্পী তেজেন্দ্রকুমার মিত্রের যে ছবিগুলিতে মূর্ত হয়ে উঠেছিল, সেই ছবিগুলির প্রতিলিপি ছিল কর্তব্য পথে দর্শকের আসনের পিছনে। মূল মঞ্চে শিল্পকর্মের মাধ্যমেও সম্মান জানানো হয় বঙ্কিমচন্দ্রকে।
