প্রতিবাদ চলবে। সমর্থনযোগ্য মনে হলে, তা সমর্থনও করা হবে। কিন্তু প্রতিবাদের নামে কোনও 'জঙ্গিপনা' সহ্য করা হবে না মোটেই। আর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের দমনপীড়নও মেনে নেওয়া হবে না। এই দুয়ের ভারসাম্য বড় কঠিন। বিশেষত আজকের দিনে জেন জি-র কোনও আন্দোলনে। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদে গর্জে ওঠায় সিদ্ধহস্ত এরা। আবার প্রতিবাদের নামে বিশৃঙ্খলতা, অযৌক্তির অশান্তি করতেও ছাড়ে না। এই মুহূর্তে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নবগঠিত 'ককরোচ জনতা পার্টি'র যে ম্যারাথন আন্দোলন চলছে, তার যথার্থতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে লাঠিচার্জের অভিযোগে কাঠগড়ায় দিল্লি পুলিশ। আবার উলটো ছবিও দেখা গিয়েছে। প্রতিবাদের নামে কার্যত পুলিশের উপরই ধেয়ে এসেছে আক্রমণ। এমনই যখন চেহারা যন্তর মন্তরের, সেসময় খাঁটি মানবিক এক ছবি দেখা গেল। ছাত্রদের এই আন্দোলনকে সমর্থন অথবা বিরোধিতা - যাই করুন না কেন, নিরাপত্তারক্ষীদের পিৎজা এগিয়ে দেওয়া যুবকের ভিডিও আপনার মনে দাগ কাটবেই।
সম্প্রতি যন্তর মন্তরের অনেক ভিডিওই ভাইরাল হয়েছে। তার মধ্যে নীতীশ কুমার তিওয়ারি নামে এক যুবকের ইনস্টাগ্রাম থেকে শেয়ার করা ভিডিওটি নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই একবাক্স পিৎজা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন কর্তব্যরত র্যাফ জওয়ানদের দিকে। তাঁদের ডেকে বলছেন, ''খেয়ে নিন স্যর, সব ঠিক হয়ে যাবে।'' এভাবেই একজন থেকে অন্যজনের দিকে খাবার এগিয়ে দিচ্ছেন যুবক। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে দেখে প্রথমে হকচকিয়ে যান। কিছুটা সন্দেহের দৃষ্টিতেও দেখেন। কিন্তু যুবকের আন্তরিক ব্যবহারে মুগ্ধ হয় র্যাফ বাহিনী। কেউ কেউ তাঁর থেকে পিৎজা গ্রহণ করেন। কারণ, সারাটা রাত আন্দোলনস্থলে পাহারায় থাকতে হবে। খিদে পাওয়া স্বাভাবিক।
ওই যুবক যে শুধু উর্দিধারী প্রহরীদের পিৎজা বিলি করেছেন, তাই নয়। 'ককরোচ'দের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁদের কাছে কাতর আবেদনও করেছেন, ''প্লিজ ওদের মারবেন না।'' নীতীশ কুমারের ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওই যুবক বলছেন, ''আমরা উর্দিধারীদের সম্মান করি। কিন্তু ছদ্মবেশে কারও উপর আক্রমণ হলে, ছাড়ব না।'' রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান আর আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জারি রাখার এমন নির্ভেজাল মিশেল আজকের দিনে বড়ই বিরল! আগামী দিনে যন্তর মন্তর থেকে হয়ত অনেক বড় কোনও বদল ঘটে যেতে পারে দেশে, অথবা উলটোটাও হতে পারে। কিন্তু একইসঙ্গে আন্দোলনকারী ও কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীদের পাশে থাকা ওই যুবকের ভিডিওটি দীর্ঘদিন সকলের মনে থেকে যাবে।
