মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে দেশের শেয়ার বাজার (Share Market)। সোমবার প্রায় আড়াই হাজার পয়েন্ট নিচে নামার পর বুধেও প্রায় দেড় হাজার পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স। যার জেরে ৮০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে সেনসেক্স। পাল্লা দিয়ে নেমেছে নিফটিও। ৪০০ পয়েন্টের বেশি পড়েছে নিফটির সূচক। পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে উদ্বেগ আরও বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের।
বুধবার সকালে বাজার খোলার পরই ধস নামতে দেখা যায় বাজারে। সেনসেক্স প্রায় ১৫০০ পয়েন্ট নিচে নামে। এরপর বেলা যত বাড়তে থাকে লাগাতার নিম্নমুখী হয় বাজার। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেনসেক্স ১৩৯২.৭৪ পয়েন্ট অর্থাৎ ১.৭৪ শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ৭৮,৮৪৬.১১তে। পাল্লা দিয়ে নেমেছে নিফটিও। রিপোর্ট বলছে, দিন শেষে নিফটি ৪৫৩.৮০ পয়েন্ট অর্থাৎ ১.৮৩ শতাংশ নেমে দাঁড়িয়েছে ২৪,৪১১.৯০তে। ব্যাঙ্ক নিফটিতেও বিরাট পতন দেখা গিয়েছে। ১২৪১.৮০ পয়েন্ট অর্থাৎ ২.০৮ শতাংশ নেমে বর্তমানে ব্যাঙ্ক নিফটির অবস্থান ৫৮,৫৯৭.৮৫-তে।
বেহাল বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে টাটা স্টিল (-৭.৫৪৪%), এলটি (-৬.৪৮%), গেইল (-৫.৮৮%), ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (-৬.৮৪%), সেইল (-৬.৯১%), ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (-৬.৩৩%)-র মতো শেয়ারগুলি। এই খারাপ অবস্থার মাঝেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সোলার ইন্ডাস্ট্রিজ (+২.১৪%), কোল ইন্ডিয়া (+১.৯০%), ইনফোসিস (+০.৭৪%), ওয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড (+২.৮৪%), সুইগি (+১.৮৭%)-এর মতো শেয়ারগুলি।
কেবল ভারতের শেয়ার বাজার নয়, বিশ্বব্যাপী বাজারেও যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বুধবার জাপানের বাজার নিক্কেই পড়েছে প্রায় ৩.৫ শতাংশ। ব্যাপক পতন দেখা গিয়েছে, আমেরিকা, ইউরোপ-সহ দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং-এর বাজারেও। যুদ্ধের আবহে আবু ধাবি এবং দুবাইয়ের বাজার দু’দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে তেলের দাম আকাশ ছোঁবে। যার প্রভাব পড়বে ভারতের বাজারে।
এহেন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বাজার বিশ্লেষকদের পরামর্শ, আপাতত বড় লাভের আশা না করাই ভালো। খুব সতর্ক থেকে ট্রেডিং করতে হবে। তবে হুড়মুড় করে শেয়ার বিক্রি করে ফায়দা তোলাটাও খুব একটা লাভজনক হবে না। অতীত উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন, কোভিড অতিমারী হোক বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-প্রাথমিক আতঙ্ক কেটে গেলেই বাজার ফের উর্ধ্বমুখী হয়েছে। সেকথা মাথায় রেখেই বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
