Advertisement
হার্ট নিয়ে এই ১০টি ভুল ধারণাই সবচেয়ে বড় বিপদ, নিঃশব্দে বাড়ছে প্রাণঘাতী ঝুঁকি
বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হার্টের অসুখ। কিন্তু এই রোগ নিয়ে এখনও রয়েছে অজস্র ভুল ধারণা। অনেকে মনে করেন তাঁরা ঝুঁকির বাইরে, কারণ তাঁরা তরুণ বা বাইরে থেকে দেখতে সুস্থ। বাস্তবে, হার্টের স্বাস্থ্য নির্ভর করে জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং বংশগত হার্টের অসুখের ইতিহাসের উপর। তাই এই ভুল ধারণাগুলো ভেঙে সচেতন হওয়াই সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ।
মিথ: হার্টের রোগ শুধু বয়স্কদের হয়। সত্যি: এই ধারণাটি একেবারেই ঠিক নয়। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, শরীরচর্চায় অনীহা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ, এসব কারণে অল্প বয়স থেকেই হার্টের ক্ষতি হতে শুরু করে। এখন তরুণের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল দেখা যাচ্ছে। তাই বয়স কম হলেও অবহেলা না করে এখন থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি।
মিথ: হার্টের রোগ শুধুই পুরুষদের সমস্যা। সত্যি: অনেকেই ভাবেন হার্টের রোগ শুধুমাত্র পুরুষদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বিশ্বজুড়ে নারীদের মৃত্যুরও অন্যতম কারণ হার্টের অসুখ। নারীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ অনেক সময় ভিন্ন থাকে এবং সহজে বোঝা যায় না। ফলে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
মিথ: কোনও উপসর্গ নেই মানেই হার্ট ঠিক আছে। সত্যি: হার্টের অনেক সমস্যাই দীর্ঘদিন কোনও লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কিন্তু মানুষ তা বুঝতেই পারেন না। অনেক ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণই হয় হার্ট অ্যাটাকের মতো গুরুতর ঘটনা। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করা যায়।
মিথ: হার্টের অসুখের পরিবারিক ইতিহাস না থাকলে ঝুঁকি নেই। সত্যি: অনেকে মনে করেন পরিবারে কারও হার্টের রোগ না থাকলে তাঁদের কোনও ঝুঁকি নেই। কিন্তু বাস্তবতা হল, জীবনযাপনই সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং মানসিক চাপ, এসব কারণে যে কোনও মানুষ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাই পারিবারিক ইতিহাস না থাকলেও সচেতন থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
মিথ: বুকে ব্যথাই হার্ট অ্যাটাকের একমাত্র লক্ষণ। সত্যি: বুকে তীব্র ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের একটি সাধারণ লক্ষণ হলেও এটি একমাত্র নয়। অনেক সময় শ্বাসকষ্ট, বমিভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা ঘাড় ও চোয়ালে ব্যথাও দেখা যায়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো বেশি দেখা দেয়। তাই এসব লক্ষণ অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু জরুরি।
মিথ: আমি রোগা, তাই আমার চিন্তা নেই। সত্যি: অনেকে মনে করেন শরীর পাতলা হলে হার্টের রোগের ঝুঁকি কম থাকে। কিন্তু এটি পুরোপুরি ভুল ধারণা। অনেক রোগা মানুষও খারাপ খাদ্যাভ্যাস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা ব্যায়ামের অভাবের কারণে ঝুঁকিতে থাকেন। শরীরের ওজন নয়, বরং জীবনযাপনই হার্টের স্বাস্থ্যের আসল নির্ধারক।
মিথ: শুধু ওষুধই যথেষ্ট। সত্যি: ওষুধ হার্টের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করলেও এটি একমাত্র সমাধান নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ কমানো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদে ফল ভালো হয় না। তাই ওষুধের সঙ্গে জীবনযাপনে পরিবর্তনও সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
মিথ: সব ধরনের ফ্যাট খারাপ। সত্যি: অনেকেই ভাবেন সব ধরনের ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু আসলে তা নয়। আমন্ড, অলিভ অয়েল ও অ্যাভোকাডোর মতো উৎস থেকে পাওয়া ভালো ফ্যাট হার্টের জন্য উপকারী। এগুলো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো হার্টের ঝুঁকি বাড়ায়।
মিথ: উচ্চ রক্তচাপ হলে বুঝতে পারবেন। সত্যি: উচ্চ রক্তচাপকে 'নিঃশব্দ ঘাতক' বলা হয় কারণ এটি সাধারণত কোনও লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। অনেক মানুষ স্বাভাবিক বোধ করেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ঝুঁকি বাড়তে থাকে। একসময় হঠাৎ করে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:50 PM Apr 30, 2026Updated: 08:50 PM Apr 30, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
