Advertisement
বাংলায় শূন্য, কেরলেও সংকট! দেশের অন্তত ১০ রাজ্যে এখনও রয়েছে বাম সাংসদ-বিধায়ক
৩ রাজ্যে শাসক দলের শরিক, একাধিক রাজ্যে প্রধান বিরোধী শিবিরে রয়েছে বামেরা।
বাংলায় বামেরা শূন্য। সেই ২০২১ সালের পর থেকেই। ২০২১-বিধানসভায় রাজ্যে কোনও বিধায়ক জেতাতে পারেনি সিপিএম বা বাম দলগুলি। ২০২৪ লোকসভাতেও তাই। ফলে একদা বামেদের দুর্গ বঙ্গে এখন বামেরা শূন্য। এ বছর সেই শূন্যদশা কাটাতে মরিয়া বামেরা। বুথ ফেরত সমীক্ষায় খানিক ইঙ্গিতও মিলেছে।
তবে বাংলায় শূন্যর গেরো কাটার সম্ভাবনা থাকলেও কেরলে বাম সরকারকে এবার কুর্সি ছাড়তে হবে বলেই মনে করছে বুথ ফেরত সমীক্ষা। অ্যাক্সিস-মাই ইন্ডিয়ার পূর্বাভাস, বাম জোট এলডিএফের দখলে যেতে পারে ৪৯ থেকে ৬২টি আসন। কংগ্রেসের ইউডিএফ পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯০ আসন। বিজেপিও তিনটি আসন পেতে পারে।
উলটো ছবিও রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র পাঁচটি আসন কম পাবে বাম জোট, মনে করছে ম্যাট্রিজ। তাদের পূর্বাভাস, ৭৫ থেকে ৮৫টি আসন নিয়ে কেরলে সরকার গড়তে চলেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট। টুডে'জ চাণক্যর ইঙ্গিত কেরলে ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হতে পারে। তবে পরিস্থিতি যা-ই হোক বামেদের শেষ দুর্গও যে টলমল সেটা স্পষ্ট।
কেরলে যদি কোনওভাবে সিপিএম ক্ষমতাচ্যুত হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে গোটা দেশে আর বামদুর্গ বলে কিছু রইল না। তাঁর মানে এই না যে গোটা দেশ থেকে বামপন্থীরা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। কেরল, বাংলার বাইরেও দেশের একাধিক রাজ্যে রয়েছে বামেদের বিধায়ক। কোনও কোনও রাজ্যে সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও তাঁরা নির্ণায়ক।
এই মুহূর্তে দেশে বামেদের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি কেরল। সেখানে সিপিএমেরই ৬২ জন বিধায়ক রয়েছেন। বাম জোটের বিধায়ক সংখ্যা ৮০-র উপরে। দেশের আর একটি রাজ্যে দুই অঙ্কের বিধায়ক রয়েছে সিপিএমের। সেটা ত্রিপুরা। সেখানে সিপিএম বিধায়ক সংখ্যা ১০। এই দুই রাজ্যের বাইরে অন্য কোনও রাজ্যে সিপিএমের দুই অঙ্কে বিধায়ক নেই। তবে অস্তিত্ব রয়েছে।
যেমন তামিলনাড়ুতে বামেরা এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে জোটে রয়েছেন। সে রাজ্যে সিপিএমের দুই বিধায়ক রয়েছে। আবার সিপিআইয়েরও বিধায়ক রয়েছেন তামিলানাড়ুতে। সামনে সে রাজ্যের নির্বাচনের ফলপ্রকাশ। এই সংখ্যাটা ধরে রাখাটা চ্যালেঞ্জ বামেদের জন্য।
বিহারে বামেরা বিজেপি বিরোধী মহাজোটের অংশ ছিল। ২০২৫ পর্যন্ত বিহারে বামপন্থীদের ১৯ জন বিধায়ক ছিলেন। এখন সে রাজ্যে বামেদের বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে তিনে। লিবারেশনের দু'জন এবং সিপিএমের একজন বিধায়ক রয়েছেন। আসলে ২০২৫ বিহারে বিরোধী শিবিরের সার্বিকভাবেই ভরাডুবি হয়েছিল।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে হিমন্ত বিশ্বশর্মা যে অসমে মেরুকরণের রাজনীতির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন, সেখানেও টিমটিম করে জ্বলছে বাম রাজনীতি। হিমন্তর রাজ্যে সিপিএমের লাল পতাকা তুলে ধরেছেন মনোরঞ্জন তালুকদার। তিনি সরভোগ বিধানসভার বিধায়ক। এবারেও ওই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস মহাজোটের প্রার্থী। জোটে আরও একাধিক দল রয়েছে।
বামেদের একজন বিধায়ক রয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরেও। কমরেড ইউসুফ তারিগামি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বাম রাজনীতি করছেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ফের নির্বাচিত হয়েছেন। ওমর আবদুল্লার সরকার তাঁকে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তিনি সেটা প্রত্যাখ্যান করেন।
এর বাইরে মহারাষ্ট্র এবং ওড়িশার মতো রাজ্যেও সিপিএমের বিধায়ক রয়েছে। মহারাষ্ট্রে বামেরা শিব সেনা, কংগ্রেস, এনসিপি শরদ পওয়ার শিবিরের বিরোধী মহাজোটের শরিক। আর ওড়িশায় বামেরা কংগ্রেসের শরিক হিসাবে বিধানসভায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। তবে আগামী দিনে এই দুই রাজ্যেই কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বাম রাজনীতি।
Published By: Subhajit MandalPosted: 08:42 PM Apr 30, 2026Updated: 09:24 PM Apr 30, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
