shono
Advertisement
Republic Day 2026

সাধারণতন্ত্র দিবসে দিল্লির বুকে 'বাঙালি অস্মিতা', কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলার শক্তি রবিঠাকুর-বঙ্কিম

এবার সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে 'বাংলা এবং বাঙালি অস্মিতা'কেই সুকৌশলে তুলে ধরে ট্যাবলো সাজালো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবারের বাংলার ট্যাবলোয় শুরুতেই থাকছে আনন্দমঠ লেখায় মগ্ন সাহিত্যসম্রাটের বিশাল মূর্তি।
Published By: Kousik SinhaPosted: 08:10 PM Jan 22, 2026Updated: 08:23 PM Jan 22, 2026

শীতকালীন অধিবেশনে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয়মন্ত্রী গজেন্দ্র শেখাওয়াত সাহিত্যসম্রাটকে ‘বঙ্কিমদাস’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। অমিত শাহ আবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলতে গিয়ে বলে দিচ্ছেন ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল’। যা নিয়ে একাধিকবার সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মনিষীদের অপমান নিয়ে সরব হন। এবার সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে 'বাংলা এবং বাঙালি অস্মিতা'কেই সুকৌশলে তুলে ধরে ট্যাবলো সাজালো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবারের বাংলার ট্যাবলোয় শুরুতেই থাকছে আনন্দমঠ লেখায় মগ্ন সাহিত্যসম্রাটের বিশাল মূর্তি। সঙ্গে থাকছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা-সহ অন্যান্যরা। সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে যেভাবে ট্যাবলো সাজানো হয়েছে তা নীরবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেই জবাব বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহল। 

Advertisement

এবারের বাংলার ট্যাবলোয় শুরুতেই থাকছে আনন্দমঠ লেখায় মগ্ন সাহিত্যসম্রাটের বিশাল মূর্তি। সঙ্গে থাকছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা-সহ অন্যান্যরা।

ডিসেম্বরে শীতকালীন অধিবেশনে যখন বাংলার মনীষীদের অপমান করছিল বিজেপি, তখন পালটা আক্রমণ শানিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা। তাঁদের হাতিয়ার ছিল দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলা ও বাঙালিদের ভূমিকা। যার পুরোভাগে থাকবেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যাঁকে দেখা যাবে তিনি মগ্ন রয়েছেন আনন্দমঠ লেখায়। চেনা ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। সম্প্রতি এসআইআর শুনানিতে ডাক পড়েছে প্রাক্তন সাংসদ তথা নেতাজির আত্মীয় সুগত বসুর। সেই নেতাজির মূর্তিও দেখা যাবে ট্যাবলোয়।

শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে ঘোড়ার পিঠে নেতাজির যে বিখ্যাত মূর্তি রয়েছে, সেটিই স্থান পেয়েছে এবারের বাংলার ট্যাবলোয়। মেদিনীপুরের দুই বিখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরাকেও দেখা যাবে ট্যাবলোয়। ফাঁসির মঞ্চে মাথা উঁচু করে দৃপ্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাবে ক্ষুদিরাম বসুকে। মাতঙ্গিনীকে দেখা যাবে তেরঙ্গা হাতে চেনা ভঙ্গিমায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলার দুই গর্বকে সুকৌশলে ট্যাবলোয় রেখে মুখে কিছু না বলেও তাঁর উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে রাখল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার। এছাড়াও ট্যাবলোয় থাকছে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ঋষি অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা, মাস্টারদা সূর্য সেন, কাজী নজরুল ইসলাম, বিনয়, বাদল, দীনেশ, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেকর ও রাসবিহারী বসুদের প্রতিকৃতি। থাকছে ঐতিহাসিক আলিপুর জেলও।

এদিন রেসিড্যান্ট কমিশনার অফিসের তরফে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব ইনফরমেশন, আশিস জানা বলেন, “দেশবাসীর কাছে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস দেশবাসীর কাছে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।”

এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডের থিম, ‘স্বাধীনতা কা মন্ত্র - বন্দেমাতরম’। যেখানে বাংলার থিম, ‘ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ভূমিকা।’ কয়েকমাস বাদেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার আগে মুখে কিছু না বললেও সাধারণতন্ত্র দিবসের ট্যাবলোয় নতুন করে বাংলা ও বাঙালির অস্মিতাকে ফুটিয়ে তুলে ‘বাংলা বিরোধী’-দের জবাব দিল রাজ্য। কয়েক সপ্তাহ আগেই যখন সংসদে বন্দেমাতরম আলোচনায় বাংলা-বাঙালিকে অপমান করেছিল কেন্দ্রের শাসকদল, তখন সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান ও মনীষীদের সামনে এনে নির্বাচনের আগে বড় চাল দিল রাজ্য।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement