shono
Advertisement
Gold

অন্তত এক বছর দেশবাসীকে সোনা কেনায় বারণ মোদির, নেপথ্যে অর্থনীতির কোন অঙ্ক?

জ্বালানি কম কেনার বিষয়টি বোধগম্য কিন্তু সোনায় না কেন? বিশেষত ভারতের মতো দেশে, যেখানে সোনার সঙ্গে বিয়ের মতো সামাজিক রীতি সম্পর্কিত, সাধারণ পরিবারের অন্যতম সম্পদও বটে।
Published By: Kishore GhoshPosted: 12:35 PM May 11, 2026Updated: 01:02 PM May 11, 2026

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের সিঁদুরে মেঘ ভারতের আকাশে। এই অবস্থায় রবিবার আমজনতাকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি আগামী এক বছর সোনা কিনতেও বারণ করেছেন তিনি। জ্বালানি কম কেনার বিষয়টি বোধগম্য কিন্তু সোনায় না কেন? বিশেষত ভারতের মতো দেশে, যেখানে সোনার সঙ্গে বিয়ের মতো সামাজিক রীতি সম্পর্কিত, সাধারণ পরিবারের অন্যতম সম্পদও বটে।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর এই বিবৃতির নেপথ্যে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক উদ্বেগ কাজ করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের জেরে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ বাড়ছে। ক্রমাগত পতন হচ্ছে ডলারের নিরিখে টাকার দামের। যা সরাসরি দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে অস্বস্তিতে ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় অশোধিত তেলের দাম হুড়মুড় করে বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে মোদির মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল দাম ব্যারেল পিছু ৭০ ডলার থেকে ১২৬ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলে সমস্ত ধরনের পণ্যের আমদানি খরচ বাড়ছে।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বদলে বারবার পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের উপর জোর দিচ্ছেন মোদি। রবিবার তেলেঙ্গানার এক সভায় তিনি বলেন, "গোটা বিশ্বে পেট্রল-ডিজেলের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। পেট্রল-ডিজেল সংরক্ষণের মাধ্যমে তা কেনার জন্য ব্যয় হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।" পাশাপাশি বলেন, "আমি জনগণের কাছে আবেদন করব, আগামী এক বছর বিয়ের জন্য সোনা কিনবেন না।" প্রশ্ন হল, সোনা কেনা কমালে কীভাবে উপকৃত হবে ভারতীয় অর্থনীতি?

মাথায় রাখতে হবে, জ্বালানি তোলের মতোই সোনাও এদেশে আমদানি করা হয়। এর জন্য খরচ হয় বিরাট অঙ্কের ডলার। সেই খরচ এখন সমস্ত সীমা ছাড়িয়েছে। অশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করা হয় যেমন, তেমনই বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্বর্ণ আমদানিকারক দেশও ভারত। মানুষ যত সোনা কিনবে, তত বেশি করে সোনা আমদানিও বাড়াতে হবে। ফলস্বরূপ আমদানি খরচ সামলাতে অতিরিক্ত ডলার খরচ হবে। কমজোরি হবে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার। এইসঙ্গে ডলার এবং টাকার দামের মধ্যে ব্যবধানও বাড়বে। এর জেরে টাকার দামের পতন হবে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের অর্থনীতি। একথা ভেবেই দেশবাসীর সোনা কেনায় রাশ টানতে চাইছেন মোদি। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement