অনূর্ধ্ব ১৬ কিশোর-কিশোরীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে এই পদক্ষেপ করেছে দেশটি। এবার কি সেই পথেই হাঁটতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশ? দক্ষিণী রাজ্যের মন্ত্রীর কথায় তেমনই জল্পনার সূত্রপাত।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অন্ধ্রপ্রদেশের তথ্য এবং প্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ জানিয়েছেন, অনূর্ধ্ব ১৬ কিশোর-কিশোরীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা ভাবছে অন্ধ্র সরকার। তাঁর মতে, যৌনতা থেকে অপরাধের ফাঁদে ছেয়ে রয়েছে সমাজমাধ্যম, তাই কিশোর-কিশোরীদের তা ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। এক্ষেত্রে কড়া আইনও প্রনয়ণ করা উচিত বলে মনে করছেন তিনি। অন্ধ্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সে রাজ্যের সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবনা- চিন্তা করা শুরু করে দিয়েছে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে অন্ধ্রই হবে ভারতের প্রথম রাজ্য, যেখানে কিশোর-কিশোরীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
সম্প্রতি মাদ্রাজ হাই কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, অনূর্ধ্ব ১৬ কিশোর-কিশোরীদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে যেভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া, সেই একই পথে হাঁটা উচিত ভারতেরও। উচ্চ আদালতের মতে, সমাজমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম থাকা উচিত। তাই এই বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের পদক্ষেপ করা দরকার। এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারপতি জি জয়াচন্দ্রন এবং কেকে রামকৃষ্ণনের এজলাসে একটি রিট পিটিশন দায়ের হয়েছিল। তাতে বলা হয়, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য কেন্দ্রকে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করতে বলুক আদালত। ইন্টারনেট পরিষেবা যারা দেয়, তাদেরকে ‘প্যারেন্টাল উইন্ডো’ চালু করতে হবে যেন ছোটদের সমাজমাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকদের নজরদারি থাকে। এইভাবেই 'পর্নোগ্রাফি'র মতো নানা ক্ষতিকারক বিষয় থেকে শিশুদের দূরে রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে তাদের সমাজমাধ্যম সংক্রান্ত আইন। কোনও প্রতিষ্ঠান এই আইন না মানলে সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা দিতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় যা ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। তবে এই জরিমানা কেবল সংস্থাগুলির জন্যই। কোনও নাবালক কিংবা তার অভিভাবককে শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ইউটিউব কিডসের মতো মাধ্যমকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয়েছে প্রতিবাদ।
