বিরিয়ানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে। প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই ঘটনা ঘটায় অভিযুক্ত। শুধু তাই নয়, ঘটনার পর রাতভর মৃত স্বামীর দেহের পাশে বসেই পর্নোগ্রাফি ভিডিও দেখে অভিযুক্ত স্ত্রী। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরে। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে অভিযুক্ত স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিককে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্রথমে বিরিয়ানির সঙ্গে একাধিক ঘুমিয়ে মিশিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ওই মহিলার নাম লক্ষ্মী মাধুরী। স্বামী লোকম শিবা নাগরাজু একজন পেশায় এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী। সুখের সংসার ছিল! কিন্তু গত কয়েকবছরে বদলে যায় লক্ষ্মী মাধুরী এবং লোকম শিবা নাগরাজুর দাম্পত্য জীবন। পুলিশ সূত্রে খবর, এলাকার এক যুবকের সঙ্গে লক্ষ্মী মাধুরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাঝে মধ্যেই তাঁদের বাড়িতেও সময় কাটাতে ওই যুবক আসে বলে জানতে পারেন লোকম শিবা নাগরাজু। এরপরেই শুরু হয় দুজনের মধ্যে দাম্পত্য কলহ। কড়া নজরদারি শুরু করেন নাগরাজু। এমনকী দুজনকে যাতে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয় সেই চেষ্টাই চালাচ্ছিলেন তিনি।
আর সেটাই সম্ভবত লক্ষ্মী মাধুরী জানতে পেরে যান বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। এরপর থেকে স্বামীকে খুনের ছক কষে ফেলেন লক্ষ্মী! এমনটাই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। আর এই কাজে তাঁকে সবরকম সাহায্য করে প্রেমিক গোপী। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঘটনার রাতে স্বামীর জন্য বিরিয়ানি বানিয়েছিলেন লক্ষ্মী। আর তাতে ২০টিরও বেশি ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়। আর তা খাওয়ার পরেই গভীর ঘুমের মধ্যে আচ্ছন্ন হয়ে যায় লোকম শিবা নাগরাজু। এরপরেই ঘরে প্রেমিক গোপী ডেকে নেন। দুজনে মিলে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করা হয় নাগরাজুকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরেই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত গোপী।
পুলিশের দাবি, ঘটনার পর নাগরাজুর দেহের পাশে বসেই রাতভর পর্নোগ্রাফি দেখেন অভিযুক্ত মহিলা। এরপর সকালে ঘটনার কথা স্থানীয় মানুষজনদের জানান লক্ষ্মী। যদিও এলাকার মানুষজনকে তিনি জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নাকি মৃত্যু হয়েছে নাগরাজু। কিন্তু পাড়ার লোকজন তা মানতে চাননি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে পুরো বিষয়টি জানান। স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নামেন পুলিশ আধিকারিকরা। প্রথমে অভিযুক্ত লক্ষ্মী এবং গোপীকে আটক করে জেরা শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা। জেরায় খুনের ঘটনা দুই অভিযুক্ত স্বীকার করে নিয়েছেন বলে খবর। এরপরেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদের।
