অতীতে ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করত ভারত। লাতিন আমেরিকার দেশটির তেল ক্রেতাদের তালিকায় ভারত ছিল তৃতীয় স্থানে। দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণে তেল আমদানি করতে চলেছে ভারত, এমনটাই খবর সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে। রিলায়্যান্স এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি সংস্থা ভেনেজুয়েলার তেল আমদানিতে আগ্রহী বলেই জানা গিয়েছে।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে নয়াদিল্লি। তারপর থেকেই গুঞ্জন ছড়ায়, রুশ তেলের বিকল্প হিসাবে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার কথা চিন্তা-ভাবনা করছে নয়াদিল্লি। উল্লেখ্য, নিকোলাস মাদুরোকে 'বন্দি' করার পর থেকে ভেনেজুয়েলার তৈলভাণ্ডার আমেরিকার নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তাই ভারতেও ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করতে বাধা থাকবে না।
রাশিয়ার মতো বিপুল পরিমাণে তেল উৎপাদন করা ভেনেজুয়েলার পক্ষে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। কিন্তু রুশ তেল কেনার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে সেই ঘাটতি ভেনেজুয়েলার তেল দিয়ে পূরণ করার স্ট্র্যাটেজি নিতেই পারে নয়াদিল্লি।
রয়টার্স সূত্রে খবর, ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল ইতিমধ্যেই কেনার বরাত দিয়েছে রিলায়্যান্স। মার্কিন সংস্থা শেভরনের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ তেল কেনা হবে ভেনেজুয়েলা থেকে। শুধু তাই নয়, অন্যান্য মার্কিন সংস্থাগুলির মাধ্যমে তেল কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারতের একাধিক শোধনাগার। সেই তালিকায় রয়েছে ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, এইচপিসিএলের মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলি। রয়টার্সের মতে, ভারত রুশ তেলের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে। সেকারণেই ভেনেজুয়েলার তেল আমদানির দিকে ঝুঁকছে ভারতীয় সংস্থাগুলি।
তবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ছিল, ভারতের রিফাইনারিগুলি কি ভেনেজুয়েলার তেল শোধন করতে সক্ষম? কারণ, বিভিন্ন দেশের অপরিশোধিত তেলের গুণমান ভিন্ন হয়। তাই রিফাইনারিগুলির ক্ষমতাও ভিন্ন হয়। তবে ভেনেজুয়েলার তেলের গুণমান এবং রুশ তেলের গুণমান প্রায় সমান। ভারতের অধিকাংশ রিফাইনারিই এই ধরনের তেল শোধন করতে সক্ষম। যদিও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, রাশিয়ার মতো বিপুল পরিমাণে তেল উৎপাদন করা ভেনেজুয়েলার পক্ষে এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। কিন্তু রুশ তেল কেনার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে সেই ঘাটতি ভেনেজুয়েলার তেল দিয়ে পূরণ করার স্ট্র্যাটেজি নিতেই পারে নয়াদিল্লি।
