রাষ্ট্রপতি শাসনে নয়। নির্ধারিত সময়েই হবে বাংলায় ভোট। স্পষ্ট জানিয়ে দিল কমিশন। যেহেতু শনিবার প্রথম পর্যায়ের ভোটার তালিকা প্রকাশ হচ্ছে, তাই সময়ে ভোট করাতে সমস্যা হবে না। তবে কবে ভোট তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। কারণ প্রথম পর্যায়ের তালিকা প্রকাশের পর কমিশনের ফুল বেঞ্চ আসবে রাজ্যে। ফিরে যাওয়ার পরেই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে বলেই মনে করছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। তার আগে মার্চের শুরুতে কমিশনের দুই সদস্যর যে দল আসার কথা ছিল নবান্নের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তা বাতিল করা হয়েছে।
নবান্নের অনুরোধে সাড়া দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সফর স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ মার্চ কমিশনের ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার-সহ প্রায় ৮ জন আধিকারিকের পশ্চিমবঙ্গে আসার কথা ছিল। ১ এবং ২ মার্চ জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল তাঁদের। বুধবার কমিশনের পক্ষ থেকে ওই বৈঠক স্থগিত করার কথা জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে, ওই বৈঠকের পরবর্তী তারিখ জানানো হবে।
রাজ্য সরকার কেন কমিশনের প্রতিনিধিদের না আসার জন্য অনুরোধ করেছিল? রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, রবিবার ইডেনে ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট ম্যাচ রয়েছে। সিবিএসই এবং আইসিএসই পরীক্ষাও চলছে। ৩ মার্ট রয়েছে দোলযাত্রা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের অনুরোধে কমিশনের প্রতিনিধিরা সফর স্থগিত রেখেছেন। ওই সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠা শুরু করে, তাহলে নির্ধারিত সময়ে ভোট ঘোষণা করে সেটা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে তো? ওই প্রশ্নের জবাবে কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোট সময় মতোই হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের ভোটের ভবিষ্যত ঝুলে বিচারালয়ের মানদণ্ডে। তাঁদের বাদ দিয়েই ২৮ তারিখ তালিকা প্রকাশ করার সব প্রস্তুতি সেরে রাখছে নির্বাচন কমিশন। অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের জন্য এদিন পর্যন্ত ৫৩২ জন বিচারক কাজ করছেন। এবং তথ্যে অসঙ্গতি ও আনম্যাপড ভোটারেদের মধ্যে যাদের তথ্য এইআরও ও ইআরওরা আপলোড করতে পারেননি বৃহস্পতিবার বিকালের মধ্যে সেই তথ্য সংশ্লষ্ট বিচারকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, ২৫ সালের তুলনায় ভোটার সংখ্যা কমলেও বুথের সংখ্যা এখনই কমিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে না কমিশন। বরং গতবারের ৮০ হাজার ৬৮১টি বুথের সঙ্গে বহুতলের ৫৭টি বুথ যুক্ত হচ্ছে। বহুতলের অতিরিক্ত ৫৭ বুথের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। সেখানে নতুন বুথের সংখ্যা ২৫। তারপর উত্তর ২৪ পরগনায় ১৬, উত্তর কলকাতায় ৫টি, হাওড়ায় ৪টি হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানে ৩টি। অর্থাৎ কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট করাতে সব প্রস্তুতি সেরে রাখছে।
তবে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যে গণ্ডগোলের আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে বুধবারও রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইও মনোজ আগরওয়াল।
