উন্নয়নে রেকর্ড গড়েছে উত্তরপ্রদেশ। শিল্পায়ন আর পরিকাঠামো শ্রীবৃদ্ধির হাত ধরে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য এখন দেশের ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার হাব’ হয়ে ওঠার পথে। বুধবার লখনউয়ে ‘নবনির্মাণ কে ৯ বর্ষ’ শীর্ষক একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশ এখন দেশের দ্রুততম প্রগতিশীল রাজ্য। আগামী ২৮ মার্চ দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দর জেওয়ারের উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
যোগী আদিত্যনাথের দাবি, এই জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে রাজ্যের কোষাগারে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব আসবে। কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে গোরক্ষপুর থেকে নয়ডা পর্যন্ত। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে বিনিয়োগ করতে শিল্পপতিরা ভয় পেতেন। এখন ছবিটা পালটে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের জিরো টলারেন্স নীতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই দেখে জাপান, সিঙ্গাপুর এবং জার্মানির মতো দেশগুলি বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।"
রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের মোট এক্সপ্রেসওয়ের ৫৫ শতাংশ এখন উত্তরপ্রদেশে। চলতি মাসেই গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৬০ শতাংশে। রাজ্যের ১৬টি বিমানবন্দর এখন সচল, যার মধ্যে চারটি আন্তর্জাতিক। জেওয়ার হবে পঞ্চম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। শুধু সড়ক বা আকাশপথ নয়, রেল ও জলপথেও উত্তরপ্রদেশ নজির গড়ছে। বারাণসীতে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম রোপওয়ে। মেট্রো পরিষেবা চলছে সাতটি শহরে।
পুরনো জমানাকে তোপ দেগে যোগী বলেন, "আগে কুসংস্কারের বশে অনেক মুখ্যমন্ত্রী নয়ডা যেতেন না। আমি সেই মিথ ভেঙে দিয়েছি। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য যদি কুর্সি যায়, তাতেও আমি পিছপা হব না।" তাঁর দাবি, গত সাত বছরে উত্তরপ্রদেশে ৩১ হাজারেরও বেশি বড় শিল্প গড়ে উঠেছে। ৯৬ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রায় ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এক সময়ের ‘অভিশপ্ত’ নয়ডা এখন দেশের মোবাইল ফোন উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। পরিকাঠামো আর নিরাপত্তার এই মেলবন্ধনেই উত্তরপ্রদেশ এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
