গত ন’বছরের উন্নয়ন আর সুশাসনের খতিয়ান পেশ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বুধবার লখনউয়ের লোকভবনে ‘নব নির্মাণ কে ন' বর্ষ’ শীর্ষক একটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গদর্শনে ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যে নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের এক নতুন মডেল তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, গত ন’বছরে উত্তরপ্রদেশ এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের সাক্ষী থেকেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই সাফল্য হঠাৎ আসেনি। এটি সরকারের সঠিক নীতি, দলীয় কর্মীদের পরিশ্রম এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ফসল। এ দিন বিগত সরকারের আমলের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাও টানেন তিনি। যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশ এক গভীর পরিচয় সঙ্কটে ভুগছিল। উর্বর জমি আর জলসম্পদ থাকা সত্ত্বেও কৃষকরা ছিলেন দিশাহারা। কুশলী কারিগররা শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হতেন। যুবসমাজের সামনে ছিল না কোনও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।” রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, আগে রাজ্যের ব্যবসায়ী ও মহিলারা নিজেদের নিরাপদ মনে করতেন না।
সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে আজ উত্তরপ্রদেশ নতুন দিশা পেয়েছে বলে দাবি যোগী প্রশাসনের। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, গত ৯ বছরে পরিকাঠামো, বিনিয়োগ, কৃষি কল্যাণ এবং নারী ক্ষমতায়নে রেকর্ড কাজ হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এখন সমাজের শেষ সারিতে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।
আগামী চৈত্র নবরাত্রি থেকে রাজ্যজুড়ে ৯টি বিশেষ থিমের ওপর ভিত্তি করে ৯ দিনের কর্মসূচি পালন করবে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল সরকারি সাফল্যকে সাধারণ মানুষের আলোচনার বিষয়ে পরিণত করা। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের আগামী দিনের উন্নয়নের রূপরেখাও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
বাজেট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৯ বছরের এই সাফল্যকে উদযাপন করতে আগামী অর্থবর্ষের জন্য প্রায় ৯.১২ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। উত্তরপ্রদেশ এখন নিরাপত্তা ও সুশাসনে দেশের সামনে উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
