বাংলার পাশাপাশি একযোগে যে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে, সেই রাজ্যগুলির মধ্যে বিজেপির জন্য সবচেয়ে 'সহজ' লড়াই অসমে। অন্তত সে রাজ্যের সাম্প্রতিক অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরিসংখ্যান দেখে তেমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেই অসমে এনডিএর আসনরফা চূড়ান্ত। এবং আসনরফার এই অঙ্ক খানিকটা অবাক করার মতোই।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে বিজেপি ইতিমধ্যেই প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। একের পর এক কংগ্রেস নেতা গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। বুধবারও প্রদ্যোত বরদলুই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সেদিনই অসমের আসনরফা সরকারিভাবে ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির। এবং চমকপ্রদভাবে বিজেপি এবার আগের থেকে কম আসনে লড়ছে। ১২৬ বিশিষ্ট অসম বিধানসভায় বিজেপি ২০২১ সালে লড়েছিল ৯২ আসনে। এবার তাঁরা ৩টি আসনে কম লড়ছে। যা বেশ চমকপ্রদ। হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে রাজ্যে ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত বিজেপি। তাহলে আগের চেয়ে কম আসনে লড়ছে কেন? সে প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে এনডিএর শরিক দল অসম গণ পরিষদ এবারও ২৬ আসনে লড়ছে। বিজেপির আরেক জোটসঙ্গী বোড়ো পিপলস ফ্রন্ট লড়বে ১১ আসনে। সব মিলিয়ে বিজেপির শরিকরা লড়ছেন ৩৭ আসনে। বিজেপি আগের চেয়ে ৩ আসন কম। অসমে এনডিএর আরেক শরিক ইউপিপিএলের জন্য কোনও আসন ছাড়া হয়নি। জোটে জায়গা না পেয়ে ক্ষুব্ধ ইউপিপিএল ইতিমধ্যেই বোড়ো অধ্যুষিত অঞ্চলে বেশ কিছু আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। রাজ্যে আলাদা ভাবেই লড়বে তারা। যা বিজেপির জন্য দুঃসংবাদ হতে পারে। কিন্ত কেন কম আসনে লড়ছে বিজেপি? আসলে হিমন্ত বিশ্বশর্মা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুসলিম অধ্যুষিত আসনগুলিতে বিজেপি প্রার্থী দেবে না। এই ধরনের ২৫ আসন এমনিই শরিকদের ছাড়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কয়েকটি আপার অসমের আসন ছাড়া হয়েছে শরিকদের জন্য।
এনডিএর শরিক দল অসম গণ পরিষদ এবারও ২৬ আসনে লড়ছে। বিজেপির আরেক জোটসঙ্গী বোড়ো পিপলস ফ্রন্ট লড়বে ১১ আসনে। সব মিলিয়ে বিজেপির শরিকরা লড়ছেন ৩৭ আসনে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে অসমে এনডিএ ১২৬ আসনের মধ্যে ৭৫টি আসনে জিতেছিল। এর মধ্যে বিজেপি একাই জেতে ৬০ আসন। অসমে ম্যাজিক ফিগার ৬৪। এবার একাই সেই সংখ্যা পেরোনোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন হিমন্ত। কিন্তু প্রশ্ন হল, ৮৯ আসনে লড়ে কি সেটা সম্ভব?
