shono
Advertisement
Madan Mitra

তৃণমূলে মদন মিত্রর শত্রু কারা? একান্ত সাক্ষাৎকারে সোজাসাপ্টা কামারহাটির বিধায়ক

সারদা থেকে নারদা, মমতা থেকে জেল। একাধিক কঠিন প্রশ্নের জবাব দিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র।
Published By: Sulaya SinghaPosted: 06:33 PM Mar 06, 2026Updated: 07:46 PM Mar 06, 2026

তিনি কালারফুল! ‘লাভলি’ বাচনে তিনিই যেন সবার সেরা! কিন্তু তাঁকে নিয়েই রয়েছে একাধিক বিতর্কও। সারদা থেকে নারদা, মমতা থেকে জেল। একাধিক কঠিন প্রশ্নের জবাব দিলেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র।

Advertisement

প্রশ্ন: নাটুকে মানেই মদন মিত্র (Madan Mitra)। আবার মদন মিত্র মানেই কালারফুল। নিজেকে কী মনে করেন, অন্য রাজনৈতিক নেতাদের চেয়ে সত্যিই বেশি ড্রামাবাজ?
উত্তর: না, রাজনীতির থেকে বড় ড্রামা তো আর কিছু হয় না। তো রাজনীতির লোকেরা যাঁরা আমাকে আলাদা করে ড্রামাবাজ মনে করেন তাঁরা ভুল করেন। তবে ড্রামা আমি করি না। আসলে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা!
প্রশ্ন: কীভাবে আলাদা করেন বিষয়টাকে! সমাজমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় মদন মিত্র একরকম, ব্যক্তিগত জীবনে একরকম দুটোকে ব্যালেন্স করেন কী করে?
উত্তর: আসলে, আমি যখন যেমন তখন তেমন এরকম করি না। দুটো চরিত্র নেই দুটো বউও নেই, একটা বউ একটা চরিত্র।
প্রশ্ন: দু'টো বউ নেই! কিন্তু আপনি নাকি কৃষ্ণের মতো! রাজনৈতিক ময়দানে আপনার অনেক সখী?
উত্তর: কৃষ্ণের তো বউ একটাই ছিল রুক্মিণী। মেয়েদের যদি আপনি শুধুমাত্র আপনার ব্যভিচার বা আপনার ফূর্তিমারার বান্ধবী হিসাবে ধরেন সেটা খুব ভুল হবে। মেয়েদের সম্মান করতে হবে। বন্ধুত্ব অনেক উপরের জিনিস।
প্রশ্ন: অর্থাৎ যত রকমের নারীঘটিত বিতর্ক তৈরি হয়, বলছেন, কেউ খারাপভাবে দেখেন বা ইচ্ছাকৃত করা হয়?
উত্তর: এখনও তো আমার নামে কোনও ৪৯৮ হয়নি! আর আমার নামে কোনও ডিজিটাল মামলাও হয়নি, আসলে আমি যা করি সব ভার্চুয়াল করি, গোপনে কিছু নেই কোনও গোপন কিছু নেই। আর আমি মেয়েদের খেলার উপাদান মনে করি না বন্ধুরা।
প্রশ্ন: আপনি মেয়েদের খেলার উপাদান মনে করেন না বলছেন। কসবাকাণ্ডে একটি মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়।
উত্তর: এটাই যদি মানুষ দুঃখ পেয়ে থাকেন, তারজন্য আমি দুঃখিত এবং আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার উদ্দেশ্য এমন ছিল না। আমি বলেছিলাম যদি কলেজের ছেলেরাও জানতে পারত যে এরকম একটা নোংরা অসভ্যতা হতে চলেছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার ছেলেরা ওখানে পৌঁছে যেত।

প্রশ্ন: দলে মদন মিত্রর শত্রু ঠিক কারা?
উত্তর: আমি মনে করি না, দলে আমার বিরুদ্ধে থাকবে! দলে তো আমার। ওটা তো আমার নিজের দল। দল আছে বলেই আমি আছি। তৃণমূল আমায় বাঁচিয়ে রেখেছে এবং আজকে আমি মদন মিত্র তৈরি হয়েছি, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য।

প্রশ্ন: মদনদা আপনি কখনও নিজের দলের উপরে দলের কোনও সিদ্ধান্তের উপরে অসন্তুষ্ট হয়েছেন?
উত্তর: তখন অসন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ ছিল না, কারণ আমি যে দল করি আমার কাছে আমার দলের দুটো নীতি- দেয়ার আর টু রুলস। রুল নাম্বার ওয়ান, বস ক্যান ডু নো রং। রুল টু, ইফ বস রং সি রুল ওয়ান। তো আমি লয়ালিস্ট।
প্রশ্ন: কথাটা শুনতে অত্যন্ত খারাপ হলেও আপনি জেলবন্দি হলেন, তখনও কোনও তৃণমূলের নেতা বা মন্ত্রী জেলে গেলেন না! সত্যিই রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়েছিলেন?
উত্তর: রাজনৈতিক চক্রান্ত নয়, তবে সিবিআই আমায় নিজে বলেছে, আমরা আপনাকে ধরতে চাইনি, আমরা ধরেছি একেবারে দিল্লির নির্দেশে। ১৫০ কোটির দেশে আপনি প্রথম ভিকটিম এবং এটা হয়েছে মিডিয়া হাইপের জন্য! তৃণমূলের একটা হেভিওয়েট কাউকে ধরা হয়েছে, অতএব কাউকে না পারিস তো এক কাজ কর মদনকে গিয়ে ধর!
প্রশ্ন: সিবিআই-ইডির নাম যখন আপনি প্রথম শোনেন প্রথম কী মনে আসে?
উত্তর: না আমি কিন্তু প্রথম থেকে ব্যাপারটা খুব হালকাভাবে নিয়েছিলাম কারণ ওরা আমাকে ইনভেস্টিগেট করার পর বলল যে আপনি একটু নিচে বসুন চা খান, ফিশ ফ্রাই বলল! আমি বললাম বসবো কেন? বলল আপনাকে ক্লিনচিট দিচ্ছি, টাইপ করছি একটু ওয়েট করুন। তা আমি সেই ওয়েট করছি তখনই আমার ফোন এল যে কোনও একটা চ্যানেল দেখাচ্ছে আমি নাকি অ্যারেস্ট হয়েছি। আমি সঙ্গে সঙ্গে ডিরেক্টর জয়েন্ট ডিরেক্টর যাঁরা ছিলেন ডিআইজি সেই সময় আমি তাঁদের গিয়ে বললাম আপনারা এতক্ষণ আমার সঙ্গে কথা বললেন। ওরা লাস্ট সময় বলল, জাস্ট মিডিয়া হাইপ মিডিয়া হাইপ মিডিয়া হাইপ!

প্রশ্ন: এটাও সত্যি মদন মিত্র বোধহয় পশ্চিমবঙ্গ রাজনৈতিক আঙিনায় এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি দু’বার জেলবন্দি হয়েছেন। তিনি দাপুটে নেতা, মন্ত্রী। সেই মদন মিত্র হঠাৎ শুনছেন 'চোর মদন', কতটা আঘাত পেয়েছেন?
উত্তর: আসলে কলকাতায় না চোরবাগান বলে একটা পাড়া আছে সেখানে দুর্গা পুজো হয়, তাই বলে কী বলা হয় চোরবাগানে চোরদুর্গা চোরদুর্গা?ওটা কোনও ব্যাপার না, একমাত্র আমি যে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও দুর্নীতির একটা কাচা টাকাও কোনওদিন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসেনি কোনও টাকা বেরয়নি। কোনও প্রমাণ হয়নি আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও সিজ হয়নি। একমাত্র আমি যে পশ্চিমবঙ্গে জেলখাটার পরেও দুর্নীতির অভিযোগের পরেও আমার মার্জিন প্রায় দেড়গুণ বাড়িয়ে আবার ইলেকশনে জিতে এসেছি।
প্রশ্ন: সমাজমাধ্যমে আপনাকে নিয়ে নানা রকম ট্রোল হয়, নায়িকাদের ছবি পাশে বসিয়ে অনেক কিছু করা হয়! কীভাবে এনজয় করেন? খারাপ লাগে, কী মনে হয় তখন?
উত্তর: যেটা ছড়ায় রটনা কখনওই ঘটনা নয়। তবে কেউ যদি রটনা করে আনন্দ পায়, আমি তো এমনি আনন্দ দিতে পারছি না, তারজন্য আমায় নিয়ে আলোচনা করে যদি তাদের কিছুক্ষণের জন্য আনন্দ লাগে পাক না! যা খুশি ওরা বলে বলুক ওদের কথায় কী আসে যায়। ওরাই রাতে ভ্রমর হয়ে নিশি পদ্মে মধু যে খায় যা খুশি ওরা বলে। (গান)

প্রশ্ন: একটু অন্য বিষয়ে আসি, রাখি সাওয়ান্ত নাকি শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, কাকে বেশি ভালো লাগে?
উত্তর: রাখি ভালো নাচেন আর শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় অত ভালো নাচতে পারেন না।

প্রশ্ন: এতদিন জেলদশা, আচমকা আপনি হিরো ছিলেন এক রাতের মধ্যে আপনাকে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো। কীভাবে মনের জোর পান?
উত্তর: তোমার বিরুদ্ধে যখন আক্রমণ আসবে বিরোধীদের যত বেশি অভিযোগ আসবে, তুমি এটা মনে করবে যে তুমি ঠিক পথে চলছ! যদি বিরোধীরা আমাকে টার্গেট করে কনস্ট্যান্টলি এবং অপবাদ দেই তাহলে বুঝতে হবে আমি তাদের সাথে কোনো আপোস করিনা আমি লড়াই করি!
প্রশ্ন: আপনি তো আর মন্ত্রী নন... কেন এই অবস্থা হল?
উত্তর :সিএবি থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সব জায়গাতেই আছেন একবারে বেশি দু’বার হওয়া যায় না! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি না থাকতেন, যে সময়টা আমার পরিবারের সবথেকে বেশি ক্রাইসিস গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন, পার্টি ছিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর মানুষ ছিলেন আমার সঙ্গে। অনেকের ভাগ্যে মানুষের মালা জোটেনি, আমার ভাগ্যে জুটেছে।
প্রশ্ন: রাজনৈতিক জীবনে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোন সিন্ধান্ত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মনে হয়েছে?
উত্তর: এটা বলা খুব মুশকিল। সিদ্ধান্ত কখনও আমি সেভাবে নিইনি। ভবানীপুরের ছেলে আমাকে আমতলায় দেওয়া হয়েছিল। আমতলা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে একদম প্রবল ক্ষমতাশালী সিপিএমের নেতার বিরুদ্ধে কামারহাটিতে গিয়েছি।

প্রশ্ন: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মদন মিত্র টিকিট পেলেন এক রকম ভবিষ্যত। যদি কোথাও টিকিট না পান তাহলে?
উত্তর: দেখুন যদির ওপর দাঁড়িয়ে কোনও সিদ্ধান্তর ব্যাপারে বলা উচিত নয। আর দল যদি আমাকে নমিনেশন না দেয়, সেই অধিকার দলের আছে।
প্রশ্ন: আপনি যখন অনুপস্থিত ছিলেন, সেই সময় অনেকেই অনেক কিছু করেছেন। শোনা যায়, মদন মিত্রের বিরুদ্ধে একটা বিরুদ্ধ গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
উত্তর: যত বেশি বিরোধিতা হয়েছে, মদন মিত্রের জয়ের ব্যবধান তত বেড়েছে।
প্রশ্ন: এত দুর্নীতি, চুরি-শিক্ষা-দুর্নীতি! শিক্ষক নিয়োগ গিয়ে একাধিক প্রশ্ন... হাজার হাজার মানুষের চোখের জল! কী অনুভব করেন?
উত্তর: খারাপ লাগে মানুষ প্রতারিত হলে। মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রতারিত করেননি এবং সেটাই আমরা শিখেছি যে, সবার উপরে মানুষ সত্য।
প্রশ্ন: শুভেন্দু অধিকারী নাকি শমীক ভট্টাচার্য নাকি দিলীপ ঘোষ, কে বেশি প্রিয়?
উত্তর: শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর ভাষাটা সংযত। বাংলা ভাষার যে রাজনীতি যে একটা লেভেল ছিল, একটা অস্মিতা ছিল, সেইটা শুভেন্দু-দিলীপ বাবুরা মানে পাড়ার ল্যাঙ্গুয়েজ নামিয়ে এনেছেন।

প্রশ্ন: আপনার ভাগ্যে মানুষের মালা জুটেছে মদনদা আপনার ভাগ্যে সব জুটেছে! আপনাকেই বিদ্ধ হতে হয় একাধিক অভিযোগে। দুর্নীতি, চরিত্রে কালিমা, প্রশ্ন! কী করে সামলান?
উত্তর: রামায়ণে সবথেকে বেশি অভিযোগ হচ্ছে রাবণের বিরুদ্ধে। মহাভারতে সবথেকে বেশি অভিযোগ দুর্যোধনের বিরুদ্ধে। কিন্তু মানুষ ঘুরেফিরে রামের কথা বললেই রাবণ ওঠে, আর যুধিষ্ঠিরের কথা, কৃষ্ণের কথা উঠলেই দুর্যোধনের কথা ওঠে। তার মানে মানুষ তাঁকে সবসময় প্রকাশ্যে রাখতে চায় যাঁর কথা মানুষ শুনবে।
প্রশ্ন: দলে মদন মিত্রর শত্রু ঠিক কারা?
উত্তর: আমি মনে করি না, দলে আমার বিরুদ্ধে থাকবে! দলে তো আমার। ওটা তো আমার নিজের দল। দল আছে বলেই আমি আছি। তৃণমূল আমায় বাঁচিয়ে রেখেছে এবং আজকে আমি মদন মিত্র তৈরি হয়েছি, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য।

প্রশ্ন: ২০১৬ সালে যখন আপনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন মানস মুখোপাধ্যায় আপনার বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে আবার দাঁড়ালেন। তবে হেরে গেলেন মাত্র ১৮০০ ভোটে...
উত্তর: আমি প্যারোল চেয়েছিলাম। মানুষকে ওরা বুঝিয়েছিল মদন মিত্রকে আর পাওয়া যাবে না। সেই মিথ্যা প্রচারে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়েছিল জনতা। পরে জবাব মানুষ দিল। পরেরবার ২০২১-এ ৩৮০০০ ভোটে আমাকে জেতাল। ২০১৯ ভাটপাড়া উপনির্বাচনে ভোটই হয়নি।
প্রশ্ন: কালারফুল মদন! ছিলেন বিধায়ক, সিনেমায় গেলেন কেন? খানিকটা মাথায় ভূত প্রবেশ করার মত হল বিষয়টা, ফেসবুক লাইভগুলো হিট হচ্ছে মানে, সিনেমার অভিনেতা হয়ে গেলেন?
উত্তর: এই যে ফুলগুলো সামনে দেখছেন, নানা রকমের ফুল ভালো লাগছে না! কী সুন্দর এগুলো যদি কুচকুচে কালো হত বা শুধুই সাদা হত, ভালো লাগতো কিন্তু অনেকটা শ্রাদ্ধবাড়ির মতো লাগতো! কিন্তু এই যে রঙিন ফুলগুলো, এটা কি সুন্দর লাগছে না? বাহ্, কী সুন্দর ওহ লাভলি! সিনেমায় আমি মৃত সৈনিকের পার্ট করি, স্পেশাল অ্যাপিয়ারেন্স। তবে এখন আমাদের দলে বড় বড় অভিনেতা-অভিনেত্রী রয়েছেন তাতে আমরা যেকোনও সময় একটা সিনেমা যখন-তখন প্রোডিউস করতে পারি! যেমন ক’দিন আগেই আমাদের দল থেকে তথ্যসংস্কৃতি দপ্তর থেকে, ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’ এবং সিনেমাটা অদ্ভুত সাকসেসফুল হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনি কি দলকে পরোক্ষে খোঁচা দিলেন, নাকি মজা করলেন, যে আমাদের দলে যে অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন, আমরা একটা সিনেমা নামিয়ে নিতে পারি?
উত্তর: আমাদের দলে ধরুন রাজ চক্রবর্তী একজন ডিরেক্টর -প্রোডিউসার। আমাদের দলে হরনাথ চক্রবর্তী থেকে শুরু করে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সায়নী ঘোষ আছেন, ফুটবলার, শিল্পী-সাহিত্যিক আজ সবার রঙে রং মেলাতে হবে!
প্রশ্ন: মৃত সৈনিকের পার্ট করেন বলছেন। কোথাও গিয়ে মদন মিত্র এখন তৃণমূল কংগ্রেসে মৃত সৈনিক?
উত্তর: না, একবার কবি বললেন, যে কবির মতো মন যাঁদের তাদের আয়ু হোক খুব কম! কবিতা কাব্যের বেশিদিন বেঁচে থাকা উচিত!একটা গান আছে, ওগো যা পেয়েছি সেইটুকুতে...
প্রশ্ন: কান্না পায় মদনদা? কালারফুল জীবনের মধ্যেও কখনও মনে হয়, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়?
উত্তর: এরকম কথা মনে হলেই সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হয় যে তুমি কে, কোথায় ছিলে, কী নিয়ে এসেছ, কী নিয়েছিলে যা হবার তাই হবে এভরিথিং এভরিবাড়ি।

প্রশ্ন: বিজেপি থেকে ডাক পেয়েছেন কখনও?
উত্তর: কারও নামে মিথ্যে কথা বলে নিজেকে হিরো সাজিয়ে কোনও লাভ নেই। বিজেপি থেকে ডাকা তো দূরের কথা,কোনও বিজেপির নেতার বাড়িতে আমাকে নিমন্ত্রণ তো পর্যন্ত করে না।
প্রশ্ন: বিরোধী রাজনৈতিক দলকে কোনও সতর্কবার্তা দেবেন মদন মিত্র?
উত্তর: আমি যদি বিরোধী দলের কোনও নেতা হতাম, আমি সিদ্ধান্ত নিতাম যেমন প্রত্যেক দিন খেতে হবে এরকম কোনও নিয়ম নেই। মাঝে মাঝে একদিন উপোসও করতে হয়। তেমনি এইবারের নির্বাচনে যদি এই কংগ্রেস আর সিপিএমের মতো পার্টিরা একটু উপোস করত, বাড়িতে বসে খেয়ে-দেয়ে তারপর আসত ভালো হত! বেকার নাচবেন, গাইবেন! নাচলেও আট আনা, গাইলেও আট আনা।
প্রশ্ন: হুমায়ুন কবির আপনার সতীর্থ ছিলেন, তিনিও এখন বিরুদ্ধচারন করছেন...
উত্তর: হুমায়ুন কী বলছে আমি নিজেই জানি না, মানে ও পার্টির কথা বলছে! আমার খুব দুঃখ লাগল, আমি শুনছি হুমায়ুন বলছে যে আমি অমুকের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করব না, কংগ্রেসের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করব না সিপিএম করব না অমুকের সঙ্গে করব না শূন্যের সঙ্গে শূন্য মিলিয়ে মহাশূন্য!
প্রশ্ন: আশুতোষ কলেজ ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা! মদন মিত্রের স্ত্রীর অভিমান হয়নি! নানা সময় বিতর্ক দেখেছেন টিভিতে …
উত্তর: কী অসুবিধা, কী আছে আমি বলতে পারব না, তাঁর ব্যক্তিগত অনুযোগ। দুঃখ থাকা উচিত আমি সময় দিই না, তবে যেদিন বিয়ে করে এসেছেন তার পরের দিন থেকে আর বাপের বাড়ি যাননি! মূলত, আমার জীবনের অনেকটাই বাইরের খোলা আকাশ!

প্রশ্ন: খোলা আকাশে মেঘ জমে, মদন মিত্রের জীবনের মেঘ? ভুল?
উত্তর: সবথেকে বড় ভুল হচ্ছে হঠাৎ করে যদি পলিটিক্সে না এসে একটু লেখাপড়ার কাজ করতাম ভালো হত!
প্রশ্ন: মানে আপনি রাজনীতিবিদ মদন না হয়ে লেখক মদন হতেন?
উত্তর: লেখক নয়, লেখাপড়া নিয়ে কাজ করা! রিসার্চ করা! পড়াশোনা করা, ভারতবর্ষকে জানা।
প্রশ্ন: জয় শ্রীরাম বলতে আপনার কোনও অসুবিধা হয় না?
উত্তর: আমি একটা কথা বলি, আমার যদি জয় শ্রী শ্যাম বলতে অসুবিধা না হয়, অন্য কিছুতে হবে কেন? কিন্তু এই যে এটা পেটেন্ট হয়ে গেছে, পেটেন্ট মানে জয় শ্রীরাম মানে বিজেপির! বিজেপি কি এনেছে নাকি রামকে?

প্রশ্ন: একটু অন্য বিষয়ে আসি, রাখি সাওয়ান্ত নাকি শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, কাকে বেশি ভালো লাগে?
উত্তর: রাখি ভালো নাচেন আর শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় অত ভালো নাচতে পারেন না।
প্রশ্ন: সুজন চক্রবর্তী নাকি বিমান বসু নাকি বুদ্ধবেব ভট্টাচার্য নাকি সেলিম? কাকে মদন মিত্র পছন্দ করেন?
উত্তর: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
প্রশ্ন: সেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেই আপনারা বলেছেন কালো হাত গুঁড়িয়ে দাও ভেঙে দাও...
উত্তর: আপনি যাদের কথা বলছেন তাদের মধ্যে বলেছি।
প্রশ্ন: জ্যোতি বসু নাকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য? কে বেশি প্রিয়?
উত্তর: জ্যোতি বসু
প্রশ্ন: কোথায় বেশি শিখেছেন, আপনার মন্ত্রিসভা নাকি জেল?
উত্তর: মমতার সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইতে!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement