একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে 'নো ভোট টু বিজেপি' স্লোগান সাড়া ফেলেছিল। ছাব্বিশের ভোটের আগে বিজেপিকে বয়কটের ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এসআইআর ইস্যুতে (SIR Issue) ভোটমুখী বঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। সাধারণ মানুষের এসআইআর হেনস্তার প্রতিবাদে ধর্মতলায় ধরনায় শামিল মমতা ও অভিষেক। শুক্রবার ওই মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে নয়া সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূলের 'সেনাপতি'।
অভিষেক বলেন, "অপরিকল্পিত এসআইআরের জন্য ১৭২ জন সহনাগরিককে হারিয়েছি। মাটির জন্য তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের বলিদান, প্রাণ আমরা বৃথা যেতে দেব না। এবার নো ভোট টু বিজেপি নয়, বয়কট বলতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করুন।" কেন্দ্রকে বিঁধে তিনি আরও বলেন, "ভারতবাসীর পোড়া কপাল। দেশ কার থেকে পেট্রল কিনবে সেটা ঠিক করে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! অমিত শাহ এলে তাঁর সভা শুরু শেষ হয় আমার নাম দিয়ে। বিজেপির সবার গায়ে জ্বালা আমায় নিয়ে। আমি ছোট একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। পাশে অসম, একপাশে ত্রিপুরা, বিহার, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট। সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। কোনও শর্ত ছাড়া আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে। মোদির একটা সরকার দিয়ে দেখাক! যদি দিতে পারে আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব। যত মহিলা আছে সবাইকে দিয়ে দেখাক। বাইরের ভোটার নিয়ে এসে নাম লিস্টে তুলে ভেবেছিল ভোটে জিতবে।"
তিনি আরও বলেন, "অপরিকল্পিত এসআইআর। বিচারব্যবস্থার একাংশ, ইডি, সিবিআই, সংবাদমাধ্যম। সবার উপরে চ্যালেঞ্জ থাকল। মানুষ ভোট দেবে, এই লড়াই সেই লড়াই। বিচারাধীন ৬০ লক্ষ। নাম কেটেছে ৫৮ লক্ষের। এক কোটির বেশি মানুষ! ১ কোটি ২৪ লক্ষ। এসআইআর ঘোষণা হওয়ার তিন মাস আগে থেকে বিজেপি নেতারা গলা ফাটিয়ে বলেছিল। এটা তো কাকতালীয় হতে পারে না। যতদিন এই ৬০ লক্ষ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে না, বঞ্চিত থাকবে। ততদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় থাকবে। মনে রাখবেন এই ৬০ লক্ষ ভোটারের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার কেন বিবেচনাধীন হবে না? অমিত শাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে কমিশন।" যদিও এদিন ৬০ লক্ষ ভোটার নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাজ্য়ের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ৬০ লক্ষের কী হবে, তা তাঁর জানা নেই। বিবেচনাধীনদের সুরাহার আগেই ভোট ঘোষণা হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। শাসক থেকে বিরোধী সকলেরই দাবি নিষ্পত্তি না হওয়ার আগে ভোট করানো উচিত নয়। এই মর্মে সিইও দপ্তরে চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা। যদিও সিইও-র দাবি, ভোট কবে হবে, সে দিনক্ষণ স্থির করার ক্ষমতা তাঁর নেই। সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
