সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করোনার জেরে এবারের আইপিএল (IPL 2021) স্থগিত করার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠল নতুন এক বিতর্ক। আইপিএলে আবার গড়াপেটার ছায়া। যে অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের (ফিরোজ শাহ কোটলা) এক সাফাই কর্মীকে।
ওই সাফাই কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বল টু বল বেটিং করেছেন। দুর্নীতি দমন শাখার (ACU) প্রধান সাব্বির হোসেন শেখাদাম এ খবর নিশ্চিত করেছেন। বল টু বল বেটিংকে আবার পিচ সাইডিংও বলা হয়। মাঠে বসা দর্শকদের থেকে টিভির দর্শকরা কয়েক সেকেন্ড পর খেলা দেখেন। অর্থাৎ কোনও বলে আউট হচ্ছে না বাউন্ডারি হচ্ছে, সেটা গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা আগে দেখতে পান। এবার দর্শকশূন্য মাঠে হচ্ছিল আইপিএল। আর সেই সুযোগেই মাঠের ‘লাইভ আপডেট’ ফোন মারফত দিচ্ছিলেন ওই সাফাই কর্মী বলেই অভিযোগ।
[আরও পড়ুন: চলতি বছরই দেশের বাইরে হতে পারে আইপিএলের বাকি ম্য়াচ, BCCI-এর হাতে ৩টি বিকল্প ভেন্যু]
তাঁর কাছে আইপিএলের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকায় মাঠে ঢোকা নিয়ে কোনওরকম সমস্যা ছিল না। ঘটনাটা ঘটে দিল্লিতে বিকেলের একটি ম্যাচের সময়। ওই ব্যক্তিকে নিরিবিলি জায়গায় দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলতে দেখেই সন্দেহ হয় দুর্নীতি দমন শাখার অফিসারদের। সন্দেহ বাড়ে তাঁর হাতে দু’টো মোবাইল দেখে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুর্নীতি দমন শাখার প্রধান জানিয়েছেন, “স্টেডিয়ামের মধ্যে একটা নির্জন জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল ওই সাফাইকর্মী। ওখানে আর কেউ ছিল না। আমাদের এক অফিসার ওকে গিয়ে জিজ্ঞেস করে যে ওখানে কী করছে? ও বলে ওর বান্ধবীদের সঙ্গে কথা বলছে। আমার অফিসার ওকে সেই নম্বরে ফোন করতে বলে। আর ফোনটা নিয়ে নেয়। একদম স্পট থেকেই ধরে ফেলা হয় ওকে।” মনে করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে বুকিদের কাছে খবর পাঠিয়ে দিতেন।
এরপর পুরো ব্যাপারটা দিল্লি পুলিশকে জানানো হয়। তবে শুধু ওই সাফাইকর্মী নয়, দিল্লি পুলিশ স্টেডিয়াম চত্বর থেকে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। যাদের কাছে আইপিএলের নকল অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পাওয়া যায়। দুর্নীতি দমন শাখার প্রধানের কথায়, “পুরো ব্যাপারটা দিল্লি পুলিশকে জানানো হয়। আর দিল্লি পুলিশও প্রচণ্ড তৎপরতার সঙ্গে কাজ করে। তারপরই আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।” এর আগেও গড়াপেটায় কলঙ্কিত হয়েছে আইপিএল। বেশ কিছু ক্রিকেটারও এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এবার কোনও ক্রিকেটার কিংবা কোনও দলের সাপোর্ট স্টাফকে এরকম কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সেই ব্যাপারে কোনও অভিযোগ অন্তত দুর্নীতি দমন শাখার অফিসাররা পাননি।