সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করল, লড়ল, জিতল রে...। এক দশক বাদে ফের আইপিএল খেতাব কেকেআরের দখলে। রবিবার চিপকের মায়াবী রাতে একপেশে ফাইনালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে স্রেফ উড়িয়ে দিল কেকেআর। এদিন প্রথমে ব্যাট করে সানরাইজার্স করল মাত্র ১১৩ রান। দুর্দান্ত বোলিং করলেন কেকেআর পেসাররা। স্টার্ক (২-১৪), রাসেল (৩-১৯), রানাদের (২-১৪) দাপটে উড়ে গেল সানরাইজার্স ব্যাটিং বিভাগ। জবাবে মাত্র ১০ ওভার ৩ বলে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে গেল নাইটরা। ভেঙ্কটেশ আইয়ার করলেন ৫২ রান। গুরবাজ করলেন ৩৯। দশবছর বাদে ট্রফি এল কলকাতায়। আইপিএলে এটা তৃতীয় খেতাব নাইটদের। কিন্তু কোন ম্যাজিকে? দেখে নেওয়া যাক পাঁচ কারণ।
টস: ২০২৩ বিশ্বকাপে যে ভুলটা করেছিলেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা (Rohit Sharma), সেই একই ভুল করলেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। টস জিতে বিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করার লক্ষ্যে আগে ব্যাট করে রান তুলে দাও। কামিন্সের এই স্ট্র্যাটেজি এদিন ব্যাকফায়ার করল। বাড়তি চাপে পড়ে ভুল করে বসলেন সানরাইজার্স ব্যাটাররা।
[আরও পড়ুন: রাজকোটের গেমিং জোন অগ্নিকাণ্ড: ছিল না ফায়ার লাইসেন্সই!]
দুর্দান্ত বোলিং: মরশুমের শুরুতেই মেন্টর গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) বলেছিলেন কেকেআরের এক্স ফ্যাক্টর হবেন মিচেল স্টার্ক। শুরুর দিকে খারাপ পারফরম্যান্সের পর বহু সমালোচনা শুনতে হয়েছে স্টার্ককে। তিনি বুঝিয়ে দিলেন কেন তাঁর উপর ভরসা রেখেছিলেন গম্ভীর। কোয়ালিফায়ারের মতোই ফাইনালে প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মা এবং তৃতীয় ওভারে ত্রিপাঠীকে ফিরিয়ে সানরাইজার্স ব্যাটিংয়ের কোমর ভেঙে দিলেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করলেন বৈভব অরোরা, হর্ষিত রানারা।
মাঝের ওভারে চাপ: চলতি মরশুমে (IPL 2024) অনেক সময় দেখা গিয়েছে শুরুটা ভালো না করলেও পরে মিডল এবং লোয়ার অর্ডারে ভর করে কামব্যাক করেছে সানরাইজার্স। এদিন সেটা হতে দিলেন না কেকেআর বোলাররা। রাসেল একাই পেলেন ৩ উইকেট। পিছিয়ে রইলেন না হর্ষিত রানা, বরুণ চক্রবর্তী, নারিনরাও।
চাপে কুঁচকে হায়দরাবাদ: আইপিএলের ফাইনালের চাপটা নিতে পারল না সানরাইজার্সের ব্যাটিং বিভাগ। হেড, অভিষেক শর্মারা ধরেই নিয়েছিলেন কেকেআরকে হারাতে হলে বড় রান করতে হবে। সেটা করতে গিয়েই ভুল করলেন অনেকে। জুটি বাঁধার চেষ্টা না করে একাধিক ব্যাটার গেলেন বড় শট খেলতে। তাতেই গোল বাঁধল। কোনও জুটিই গড়তে পারল না সানরাইজার্স।
[আরও পড়ুন: ইন্ডিয়া জোটে ‘প্রধানমন্ত্রীর মুখ’ কে? প্রশ্নের জবাবে কী বললেন খাড়গে]
নাইট ব্যাটারদের দাপট: টার্গেট ছিল মাত্র ১১৪। নিঃসন্দেহে সহজ। কিন্তু আইপিএল ফাইনাল। তার উপরে বল সুইং করছে। স্বাভাবিকভাবেই চাপ তৈরি হওয়ার একটা জায়গা ছিল। শুরুতে নারিনের উইকেটও হারিয়েছিল কেকেআর। কিন্তু চাপ তৈরির জায়গাটা তৈরিই হতে দিলেন না গুরবাজ এবং ভেঙ্কটেশ। গুরবাজ করলেন ৩৯ রান। আর ভেঙ্কটেশ করলেন ৫২।