রাহুল রায়: একবালপুরের ঘটনায় শহরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের আরজি নিয়ে আগেই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দিয়েছিলেন জনৈক ব্যক্তি। এবার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে জোড়া জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে। বুধবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে হাই কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে। এপ্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “এটি আদালতের বিষয়। এ নিয়ে কিছু বলব না। তবে এ বিষয়টা আশা করি আদালতেই শুনতে পাব। কোনও টিভি সাক্ষাৎকারে দেখতে হবে না।”
শনিবার রাতে ঘটনার সূত্রপাত মোমিনপুরের ময়ূরভঞ্জ রোডে। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ইটবৃষ্টিও হয়। রবিবার দুপুরে ফের উত্তেজনা ছড়ায় ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর থানা এলাকায়। একবালপুর থানা ঘেরাও করে উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। ঘটনায় কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক-সহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনায় এপর্যন্ত ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নামানো হয়েছে র্যাফ।
[আরও পড়ুন: একটি মেট্রো মিস হলেই আধ ঘণ্টার অপেক্ষা, চিন্তা শহরের নয়া দুই মেট্রো রুট নিয়ে]
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আরও ৩৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোটিশ পাঠিয়ে ৪১ জনকে সতর্ক করা হয়েছে। অশান্তির ছবি ছড়ানোর জন্য ৮০টি ভিন্ন ভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার জনৈক নব্যেন্দু কুমার বন্দোপাধ্যায় ই-মেইল মারফত হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব কে চিঠি দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এনিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলা দায়েরেরও আবেদন জানান তিনি। এনিয়ে মঙ্গলবার মামলাও দায়ের করেন তিনি। অন্যদিকে, এদিন ঘটনায় বিজেপি আইনজীবী সেলের তরফে মামলা দায়ের করেন সুস্মিতা সাহা দত্ত। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও ঘটনায় এনআইএ তদন্তের আরজি জানান তিনি। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেয় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। অন্যদিকে, এনিয়ে মঙ্গলবার প্রত্যেক জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
