shono
Advertisement

অনলাইন কোচিংয়ের আড়ালে চিনে ৮৩ কোটি টাকা পাচার! তদন্তে ইডি

চিনা সংস্থাটি দেশের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে চিনে পাচার করছে।
Posted: 02:15 PM Jul 31, 2023Updated: 02:15 PM Jul 31, 2023

অর্ণব আইচ: এখানে পড়লেই ছাত্রছাত্রীরা সুযোগ পাবে ‘নিট’ বা আইআইটিতে। এই অনলাইন কোচিংয়ে সেকেন্ডে সেকেন্ডে ছাত্রছাত্রীর সংখ‌্যা বেড়ে চলে, এমনই দাবি কর্তৃপক্ষের। নামমাত্র টাকা ‘এনরোলমেন্ট ফি’ হিসাবে নিয়ে এরপর মোটা কোর্স ফি নিত এই অনলাইন কোচিং সেন্টার।

Advertisement

এই পর্যন্ত অনলাইন কোচিং সেন্টারটি ঘিরে কোনও সমস‌্যা ছিল না। কিন্তু এই সংস্থার টাকার লেনদেনের দিকে নজর দিতে গিয়েই চোখ আটকে যায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের। তাঁরা জানতে পারেন, ওই পঠনপাঠন সংস্থাটির কোটি কোটি টাকা পাচার হয়েছে চিনে। সেই সূত্র ধরেই ফের তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি জানতে পারে যে, ওই সংস্থাটি পরিচালিত হচ্ছে চিন থেকেই। সম্পূর্ণ ওই চিনা সংস্থাটি এই দেশের লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে তা সুকৌশলে চিনে পাচার করছে। ইডির জেরার মুখে সংস্থাটির ভারতীয় কর্তারা স্বীকার করেছে যে, চিনের কর্তাদের নির্দেশেই চলছে এই কোচিং সেন্টার।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা একটি বেসরকারি শিক্ষাকেন্দ্রর উপর নজর পড়ে গোয়েন্দাদের। ওই শিক্ষাকেন্দ্রটি থেকে যে বেআইনি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে, এমনই সন্ধান পান গোয়েন্দারা। সেই সূত্র ধরেই ওই সংস্থার দপ্তরে ইডি তল্লাশি  চালিয়ে প্রথম দফায় ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা উদ্ধার করে। কিন্তু ওই টাকা উদ্ধারের পরও একইভাবে টাকা পাচার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরের দফায় ইডি তল্লাশি চালিয়ে ৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা উদ্ধার করে। মোট ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ইডি বাজেয়াপ্ত করে।

[আরও পড়ুন: ভুয়ো নথি দিয়ে আধা সামরিক বাহিনীতে পাক নাগরিকরা! হাই কোর্টে বিস্ফোরক রিপোর্ট CBI-এর]

ওই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিই একটি বিশেষ অনলাইন কোচিং সেন্টার চালায়। সেই কোচিং সেন্টারটি এনআইআইটি ও আইআইটিতে সুযোগ পাওয়ার জন‌্য ক্লাস করায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদেরও অনলাইন ক্লাস নেয় ওই কোচিং সেন্টার। বিশেষ করে সিবিএসই, আইসিএসসি-র বহু ছাত্রছাত্রীই ওই কোচিং সেন্টারে ক্লাস করে। অনলাইনে ফলাও করে বিজ্ঞাপন দিয়ে কোন কোন ছাত্রছাত্রী ভাল ফল করেছে, তা জানানো হয়। ওই সংস্থাটির দাবি, প্রায় ৭০ লাখ ছাত্রছাত্রীকে পড়িয়েছে এই অনলাইন কোচিং সেন্টার।

ওই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব‌্যাপারে তদন্ত করতে গিয়ে ইডির গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, ওই সংস্থাটি পুরোপুরি চিন থেকে পরিচালিত। ওই সংস্থার মালিক লিউ কান চিনেরই বাসিন্দা। বেজিং-সহ চিনের একাধিক শহরে তাঁর বাড়ি ও অফিস রয়েছে। ইডির দাবি, লিউ কানের নির্দেশেই এই দেশে চলে এই কোচিং সেন্টার। কিন্তু ওই কোচিং সেন্টারের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে তোলা ফি হিসাবে এখনও পর্যন্ত ৮২ কোটি ৭২ লাখ টাকা পাচার হয়েছে চিন, ‘সার’ বা স্পেশাল অ‌্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিজিওনস অফ চায়না, হংকংয়ে।

এই ব‌্যাপারে সংস্থার এই দেশের অধিকর্তা, অ‌্যাকাউন্টস ম‌্যানেজার ও অন‌্য কয়েকজন কর্তাকে জেরা করে ইডি আধিকারিকরা নিশ্চিত হন যে, ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অনলাইনে সংগ্রহ করা পুরো টাকার একটি অংশ অনলাইনে বিজ্ঞাপন বা মার্কেটিংয়ে খরচ করা হত। এই ব‌্যাপারে সংস্থার আসল মালিক লিউ কান ওই অধিকর্তাকে জানান যে, সোশ‌্যাল মিডিয়ায় বেশি করে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। যদিও ইডির অভিযোগ, ওই বিজ্ঞাপনের কোনও নথি তাঁরা গোয়েন্দাদের দেখাতে পারেননি। এছাড়াও এই দেশের পরিকাঠামোর জন‌্য টাকা রেখে বাকি টাকা পাঠানো হত চিনের কয়েকটি বিশেষ অ‌্যাকাউন্টে। এই ব‌্যাপারে আরও তদন্ত করে তথ‌্য জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইডি।

[আরও পড়ুন: চলন্ত ট্রেনে শুটআউট! জয়পুর-মুম্বই এক্সপ্রেসে আরপিএফের গুলিতে নিহত ASI-সহ ৪]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement