ফের মেট্রোতে ঝাঁপ। রবীন্দ্র সরোবর মেট্রোতে আত্মহত্যার চেষ্টা এক ব্যক্তির। ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ আপ ট্রেনের সামনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ব্যাহত পরিষেবা। ভাঙা রুটে ময়দান থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত পরিষেবা মিলছে। ভোগান্তিতে যাত্রীরা।
জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে দক্ষিণেশ্বরগামী মেট্রোটি রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনে ঢুকছিল। সেই সময় এক ব্যক্তি মেট্রোর সামনে ঝাঁপ মারেন। চালক তড়িঘড়ি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। এখনও পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা যায়নি বলেই খবর। ফলে ব্যাহত পরিষেবা। রবীন্দ্র সরোবর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা বন্ধ। তবে ময়দান থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত চলছে মেট্রো।
ব্যস্ততম সময়ে মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা। ছুটির দিনে অফিস যাত্রীদের ভিড় না হলেও, জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত যাত্রীরা আটকে পড়েছেন। অনেকে আবার পরিবার নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছেন। তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিকের চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত তিনমাসে এই নিয়ে ১০ জন মেট্রোতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন। এই দশজনের মধ্যে ৭ জনই মারা গিয়েছেন। ২ জনকে বাঁচানো গিয়েছে। আজ, রবিবার ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তি মৃত না জীবিত এখনও জানা যায়নি। এই পরিসংখ্যান উদ্বেগ বাড়িয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষের।
মেট্রোর সামনে এই ঝাঁপের জেরে প্রায় প্রতিবারই অন্তত এক ঘণ্টা করে ব্যাহত হচ্ছে মেট্রো চলাচল। কারণ তৃতীয় লাইনের বিদ্যুৎ বন্ধ করে লাইনে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিকে তুলতে লেগে যায় এই সময়। ফলে ভুগতে হয় সাধারণ মানুষকে। সকালের অফিস যাওয়া হোক বা বিকেলে অফিস ফেরত, যে কোনও সময়ই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। সাধারণ যাত্রীরাও এতে তিতিবিরক্ত।
আত্মহত্যা রুখতে কালীঘাট স্টেশনে গার্ডরেল বসানো হয়েছে। তারপর থেকে সেখানে আর আত্মহত্যা হয়নি। কিন্তু বাকি স্টেশনে তা আর বসানো হবে কি না, সে বিষয়েও সঠিক উত্তর জানা নেই মেট্রো কর্তাদের। এই ঘটনাগুলোয় মানসিক চাপ পড়ছে চালকদের উপরও। চোখের সামনে কেউ ঝাঁপ দেওয়ার পর সেই চালককে মেট্রো চালানো থেকে বিরতি দেওয়া হয়। একাধিকবার কাউন্সেলিংও করানো হয়েছে চালকদের।
