ঘরে-বাইরে তোপের মুখে হুমায়ুন কবীর এখন আলিমুদ্দিনের কাছে ‘ক্লোজড চ্যাপটার’। কংগ্রেসও জানিয়ে দিয়েছে, জোটে সিপিএমের সঙ্গে তারা নেই। হুমায়ুন ও কংগ্রেসের হাত ধরতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এখন অকূল পাথারে পড়েছেন। আর এবার ‘মিম’-এর দ্বারস্থ সিপিএম! মিমের কাছে গেল সিপিএমের ফোন! সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি ফোন পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান তিনি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মালদহ-মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে বেশ কিছুদিন ধরেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে মিম। জনতা ইউনাইটেড পার্টি তৈরি করার পর হুমায়ুন কবীরও মিমের সঙ্গে জোটের কথা বলেছিলেন। এবার সেই মিমের কাছেই ফোন গেল সিপিএমের তরফে। ইমরান সোলাঙ্কি এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমার কাছে ফোন এসেছিল। আমি তখন সভায় ছিলাম। সিপিএমের সঙ্গে নিশ্চয় বসব। জানতে চাইব ওরা কী চায়। কলকাতা বা মুর্শিদাবাদ যেখানে চাইবে, সেখানেই বসব। জোটের কথা কী বলে শুনতে চাইব।” পার্টির রাজ্য সম্পাদকের সবুজ সংকেত ছাড়া মিমের সঙ্গে জোট নিয়ে কথা বলতে কোনও সিপিএম নেতা যে ফোন করবেন না তা স্পষ্ট।
কুণাল ঘোষের বক্তব্য, "সিপিএম রাজনৈতিক ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছে। ভিক্ষাপাত্র হাতে ঘুরছে। একা মুরোদ নেই যত বড় বড় কথা। হুমায়ুনের মন বুঝতে গিয়েছিলেন মহম্মদ সেলিম।"
বামেদের একাংশ মনে করছে, সেলিমের ইচ্ছাতেই সিপিএমের তরফে কেউ ফোন করেছিলেন। এদিকে, হুমায়ুনের পর আবার মিমের সঙ্গে জোট নিয়ে সিপিএম আগ্রহী– এই বিষয়টা ফের প্রকাশ্যে আসায় ক্ষুব্ধ বামফ্রন্টের শরিকরা। বাম মহলে প্রশ্ন, মুর্শিদাবাদে লড়তে কখনও কংগ্রেস, কখনও হুমায়ুন আবার এখন মিমের কাছে যাচ্ছে কেন সিপিএম? একা সিপিএম জিততে পারবে না জেনে মুর্শিদাবাদে কোনও বিধানসভা আসনে প্রার্থী হতেই কি সেলিম জোটসঙ্গী খুঁজে চলেছেন? সেলিমের এই জোটসঙ্গী খঁুজতে যাওয়া নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে সংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘‘সিপিএম রাজনৈতিক ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছে। ভিক্ষাপাত্র হাতে ঘুরছে। একা মুরোদ নেই যত বড় বড় কথা। হুমায়ুনের মন বুঝতে গিয়েছিলেন মহম্মদ সেলিম। ১৪ ফেব্রুয়ারি আসছে, সেলিম মন বুঝতে ভ্যালেন্টাইনস ডে-কে কাজে লাগাচ্ছে। এখন চারদিকে মন বুঝতে যাচ্ছে।’’ যদিও এই ফোনের কথা অস্বীকার করেছেন সেলিম। বিভিন্ন রকম 'জঞ্জাল'কে তাঁদের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
প্রসঙ্গত, জোট নিয়ে এখন কার্যত শাঁখের করাতের দশা সিপিএমের। একদিকে, কংগ্রেস সখ্য ছেড়েছে, অন্যদিকে ‘যার-তার’ সঙ্গে জোটে শরিকদের প্রবল আপত্তি। জোট জটিলতার মাঝে শরিক ‘বিদ্রোহ’ সামলাতে আসরে নামতে হয়েছে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকেও। আবার নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ ৫০ আসনে লড়তে চায়। সেটা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে ফ্রন্টে। আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠক। তার মধ্যে জোট ও শরিকদের সঙ্গে আসন সংক্রান্ত যাবতীয় জটের অবসান ঘটাতে চাইছে বামেরা।
