একদিকে যখন ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'হাইভোল্টেজ' সভা চলছে, ঠিক তখনই বিজেপির অশান্তিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শহর। কলকাতায় গিরিশ পার্কে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। তাঁর বাড়ি, অফিস লক্ষ্য করে চলে হামলা। এমনকী ইট নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠছে। ঘটনায় আক্রান্ত হতে হয় খোদ মন্ত্রী শশী পাঁজাকে। আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক পুলিশকর্মীও। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ লিখছেন, 'এটা শুধু একজন মহিলাকে আক্রমণ নয়। এটা বাংলার প্রতিটি মহিলার উপর আক্রমণ।' শুধু তাই নয়, বিজেপির 'গেরুয়া গুণ্ডাগিরি' যে বাংলা সহ্য করবে না তাও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এক্স মাধ্যমে এদিন এই ঘটনাকে জঘন্য, কাপুরুষোচিত অপরাধ বলে উল্লেখ করেন অভিষেক। শুধু তাই নয়, তিনি উল্লেখ করেন, দিনের আলোয় কীভাবে রাজ্যে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়েছে, তছনছ করে দেওয়া হয়েছে সব। সমাজমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলছেন, দলের কর্মীদের বেধড়র মারধর করা হয়েছে। এমনকী কীভাবে খোদ শশী পাঁজা ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন, সেই বর্ণনাও করেছেন তিনি।
দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অভিষেক বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই আক্রমণ আসলে বাংলার সব মহিলাদের উপর আক্রমণের সামিল। তিনি লিখেছেন, 'রাজ্যের একজন মন্ত্রীর উপর দিনের আলোয় আক্রমণ হল, এটা শুধু একজন মহিলার উপর আক্রমণ নয়, এটা বাংলার সব মহিলার উপর আক্রমণ।' এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিষেক মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৯ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি কীভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
অভিষেক লিখেছেন, 'রাজ্যের একজন মন্ত্রীর উপর দিনের আলোয় আক্রমণ হল, এটা শুধু একজন মহিলার উপর আক্রমণ নয়, এটা বাংলার সব মহিলার উপর আক্রমণ।' এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিষেক মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০১৯ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি কীভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
তৃণমূল সাংসদ লিখছেন, 'এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। এভাবেই বহিরাগত জমিদাররা তাদের রাজনীতি বাংলায় ফলাতে চাইছে। শান্তি নষ্ট করতে চাইছে। ভয় ধরাতে চাইছে। এদের কোনও ক্ষমাও নেই, এই ঘটনা আমরা ভুলবও না।' এমনকী বিজেপির গুণ্ডাগিরি সহ্য করা হবে না তাও সমাজমাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। ব্রিগেডে মোদির সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে বিজেপি কর্মীরা কলকাতায় এসেছিলেন। গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে থাকা ‘বয়কট বিজেপি’ ব্যানার ছিড়ে ফেলেন বিজেপি কর্মীরা। তা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। মন্ত্রীর অভিযোগ, ”বহিরাগতদের নিয়ে ব্রিগেডে সভা করছে বিজেপি। আর এই বহিরাগতরাই বাস থেকে নেমে আমার বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড ছিড়ে পালিয়ে গিয়েছে। কেন? সাহস থাকলে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করুক। এত কাপুরুষ যে মেন রাস্তার উপর আমার বাড়ির ঢোকার মুখে ওরা ভাঙচুর করেছে। ইট ছুড়েছে, আমার বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে গিয়েছে।” ঘটনায় শশী পাঁজার পিঠে, কোমরে ইটের আঘাত লাগে।
