ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভার ঠিক আগেই বিজেপির অশান্তিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শহর। কলকাতায় গিরিশ পার্কে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। তাঁর বাড়িতে বিজেপি নেতাদের ইট নিয়ে হামলা, ভাঙচুরের জেরে আক্রান্ত হন খোদ মন্ত্রী। আক্রান্ত হয়েছেন একাধিক পুলিশকর্মীও। ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন। ঘটনায় কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কমিশন। শুধু তাই নয়, কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হল না তা নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা কমিশনের কাছে তলব করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভোটের আগে শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা আছে। এরপরেও কেন তা ব্যবহার করা হল না তা নিয়ে প্রশ্ন কমিশনের।
ঘটনায় কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কমিশন। শুধু তাই নয়, কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হল না তা নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা কমিশনের কাছে তলব করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। ব্রিগেডে মোদির সভায় যোগ দিতে বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে বিজেপি কর্মীরা কলকাতায় এসেছিলেন। গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে থাকা ‘বয়কট বিজেপি’ ব্যানার ছিড়ে ফেলেন বিজেপি কর্মীরা। তা থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। মন্ত্রীর অভিযোগ, ''বহিরাগতদের নিয়ে ব্রিগেডে সভা করছে বিজেপি। আর এই বহিরাগতরাই বাস থেকে নেমে আমার বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড ছিড়ে পালিয়ে গিয়েছে। কেন? সাহস থাকলে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মোকাবিলা করুক। এত কাপুরুষ যে মেন রাস্তার উপর আমার বাড়ির ঢোকার মুখে ওরা ভাঙচুর করেছে। ইট ছুড়েছে, আমার বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে গিয়েছে।” শশী পাঁজার পিঠে, কোমরে ইটের আঘাত লাগে।
শুধু তাই নয়, ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গিরিশ পার্ক এলাকা। ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বউবাজার থানার পুলিশ বাহিনী। নামানো হয় র্যাফ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে ইটের আঘাতে আহত হন বউবাজার থানার ওসি নিজে। এছাড়া বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন এই ঘটনায়। বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগেই বাংলায় আসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধিন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। দফায় দফায় রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কমিশনের মতে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক সন্তোষজনক। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশের বার্তা ছিল, “পশ্চিমবঙ্গে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। কোনও উসকানি বরদাস্ত নয়।” এরপরেই এদিনের ঘটনায় রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন।
