চাকরি বিক্রি, ঘুষ বিনিময়ের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢুকল কার অ্যাকাউন্টে? প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এই প্রশ্নে খোঁজ করতে গিয়ে বারবার সামনে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নাম। এবার সেই সংস্থার লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। চাওয়া হয়েছে সম্পত্তির খতিয়ানও। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবার প্রায় ১১ ঘণ্টা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে জেরা করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একাধিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। এমনকী তদন্তে পুরোপুরি সহযোগিতা অভিষেক করেননি বলেও খবর। তবে নতুন করে ফের তাঁকে ডাকা হবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইডি সূত্রে খবর, সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
অভিষেক জানান, ''সকাল ১১টার আগে এসেছি। ১১ ঘণ্টা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই ঘটনায় আমাকে শেষবার ডাকা হয়েছিল ২০২৩ সালে। আমি তখনও এসেছিলাম। সব মিলিয়ে ১০-১২ বার আমি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমার সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য করেছি।''
অন্যদিকে এই মামলায় ইডির ‘তুরুপের তাস’ ১৫ মিনিটের কথোপকথন। ওই অডিও রেকর্ডিংয়ের কথা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। আর তার সূত্র ধরেই সোমবার বেলা ১১টা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করেন ইডি আধিকারিকরা। ইডি সূত্রে খবর, গত ২০১৭ সালে ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বেহালার বাড়িতে বৈঠক হয়। শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুন্তল ঘোষও ছিলেন বৈঠকে। ওই বৈঠকে নাকি চাকরি বিক্রির কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে ঝগড়াঝাটি হয়। আর সেই দ্বন্দ্বেই একাধিকবার উঠেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। উঠেছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও। কথোপকথনে নাকি শোনা গিয়েছে, পার্থ ঘুষের বিনিময়ে ‘অযোগ্য’ ব্যক্তিকে চাকরি দেন। সুজয়কৃষ্ণের থেকে ১৫ কোটি টাকা দাবি করেছিল। চাকরিপ্রার্থীদের থেকে আবার ১০০ কোটি টাকা তোলার ভাবনাচিন্তা করে ‘কালীঘাটের কাকু’। সেই টাকাই নাকি তোলার ‘গুরুদায়িত্ব’ পেয়েছিল কুন্তল ও শান্তনু। ১০০ কোটির মধ্যে ২০ কোটি নাকি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে দেওয়ার কথা ছিল।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই ‘কালীঘাটের কাকু’ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। গ্রেপ্তার করা হয় শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুন্তল ঘোষকে। এরপর তদন্তকারীদের হাতে আসে ওই ১৫ মিনিটের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড। ওই অডিও রেকর্ডিংয়ের সঙ্গে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বরও মিলিয়ে দেখা হয়। সেই কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে ভিনরাজ্যে পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, ১৫ মিনিটের অডিও রেকর্ডিংয়ের সত্যতা যাচাই করতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেরা করা হয়। কিন্তু তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা তিনি করেননি বলেই দাবি।
যদিও তদন্তে সবরকম সাহায্য করেছেন বলেই জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, ''সকাল ১১টার আগে এসেছি। ১১ ঘণ্টা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এই ঘটনায় আমাকে শেষবার ডাকা হয়েছিল ২০২৩ সালে। আমি তখনও এসেছিলাম। সব মিলিয়ে ১০-১২ বার আমি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে উপস্থিত হয়েছি। আমার সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য করেছি।''
