রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মুর বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে উঠল। এই ইস্যুতে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও পদাধিকারীর উপস্থিত না থাকার ঘটনা দেশের সাংবিধানিক প্রধানের প্রতি ‘অসম্মান’ বলে উল্লেখ করেন মোদি। একইসঙ্গে তাঁর তোপ, ‘পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে।’ আর এহেন পোস্টের কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে পালটা জবাব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যেখানে একসারিতে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, রাজ্যপাল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতিকেও রেখেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এরা একদিকে আর অন্যদিকে বাংলার মানুষ।
মোদির টুইটকে শেয়ার করে সমাজমাধ্যমে পালটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বনাম বিজেপি-ইসিআই-ইডি -আইটি-সিবিআই -এনআইএ-সিএপিএফ-রাজ্যপাল -২০ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী-১০ জন মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী-শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রপতি জি-গোদি মিডিয়া। যখন সমস্ত প্রতিষ্ঠান বাংলার বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তখন বাংলা আরও শক্তি পায়। আসুন মোকাবিলা করি।'
মোদির টুইটকে শেয়ার করে সমাজমাধ্যমে পালটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, 'পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বনাম বিজেপি-ইসিআই-ইডি -আইটি-সিবিআই -এনআইএ-সিএপিএফ-রাজ্যপাল -২০ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী-১০ জন মুখ্যমন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী-শ্রদ্ধেয় রাষ্ট্রপতি জি-গোদি মিডিয়া। যখন সমস্ত প্রতিষ্ঠান বাংলার বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তখন বাংলা আরও শক্তি পায়। আসুন মোকাবিলা করি।'
রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এসেছেন, অথচ তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি মুখ্যমন্ত্রী অথবা অন্য কোনও মন্ত্রী – একথা উল্লেখ করে শনিবার রাষ্ট্রপতি নিজে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ তুলেছিলেন। মন্তব্য করেছিলেন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও।” রাষ্ট্রপতির এহেন মন্তব্যের পরই সোশাল মিডিয়ায় সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
রাষ্ট্রপতির সেই বার্তা সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করে মোদি লেখেন, ‘এটি লজ্জাজনক এবং অভূতপূর্ব। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে।''
শুধু তাই নয়, সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার হালকাভাবে দেখছে বলেও সমাজমাধ্যমে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লেখেন, 'রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’
আর এহেন পোস্টের পালটা জবাব দিতে দেরি করেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সর্বশক্তি বিজেপির বাংলার বিরুদ্ধে কুৎসা, ষড়যন্ত্র করলেও বাংলার মানুষ একজোট থাকবে। শুধু তাই নয়, ইডি, সিবিআই কিংবা নির্বাচন কমিশনের মতো সংস্থাগুলির সঙ্গে বিজেপির আঁতাত রয়েছে তা নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ তুলেছেন শাসকদল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এবার সেই তালিকায় রাষ্ট্রপতিকেও জুড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
