সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক প্রতিভাবান পড়ুয়ার। ঘটনাস্থল সেই অভিশপ্ত ইএম বাইপাস। রবিবার সকালে শিবপুর থেকে লাক্সারি ক্যাবে চেপে রাজারহাটে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন চার পড়ুয়া। ইএম বাইপাসের কাছে মেট্রোপলিটন বাস স্টপের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক ধাক্কা মারেন ডিভাইডারে। গুরুতর জখম হন চার ছাত্রই। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত্যু হয় সায়ন্তন বিশ্বাস নামে এক ছাত্রের।
[নামের হেরফেরে ট্রেন বা স্টেশনে দেদারে বিকোচ্ছে নকল জল, বিভ্রান্ত যাত্রীরা]
ছেলে যে মৃত, সে কথা সায়ন্তনের মা-বাবাকে জানাতেই ভয় পাচ্ছেন আত্মীয়রা। এক আত্মীয় বলছেন, ‘সায়ন্তনের মতো ছেলে হয় না। একেবারেই চুপচাপ থাকত। পড়াশোনা ছাড়া কোনও কিছুতে ওর আগ্রহ ছিল না।’ দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ছুটে আসেন শিবপুর আইআইইএসটির রেজিস্ট্রার। তাঁর অভিযোগ, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার পরই আহত ছাত্রদের নিয়ে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে রবিবার বলে কোনও সিনিয়র ডাক্তার ছিলেন না। উপযুক্ত চিকিৎসা হলে সায়ন্তন বেঁচেও যেতে পারতেন বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে অ্যাপ ক্যাবের চালককেও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগ করেন, ওই চালক বেপরোয়াভাবে গাড়ি না চালালে এক প্রতিভাবান ছাত্রের এভাবে মৃত্যু হত না।
ঠিক কী ঘটেছিল এদিন? সায়ন্তনের পিসির বক্তব্য অনুযায়ী, মা ফ্লাইওভার থেকে নেমে সায়ন্তনদের নিয়ে চিংড়িঘাটার দিকে যাচ্ছিল অ্যাপ ক্যাবটি। অতিরিক্ত গতির ফলে হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারায় গাড়িটি। মেট্রোপলিটনের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে গাড়িটি। মারাত্মক জখম হন সায়ন্তন-সহ ৪ পড়ুয়া ও গাড়ির চালক। দুর্ঘটনার পরেই ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সকলকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পরে চালক ছাড়া বাকি আহত ছাত্রদের নিয়ে যাওয়া হয় বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে। সেখানেই সায়ন্তনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তাঁর পিসির অভিযোগ, অ্যাপ ক্যাবগুলি কতটা নিরাপদ, সেই বিষয়ে খোঁজ নিক প্রশাসন। কিন্তু সায়ন্তন যে এখন নেই, সেই কথা কে জানাবে তাঁর মা-বাবাকে, সেটাই এখন ভেবে উঠতে পারছেন না আত্মীয়রা। প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ গাড়িটিকে আটক করেছে।
[কলকাতা স্টেশনকে করিডর করে অস্ত্রপাচারের ছক, উদ্ধার ২১টি রিভলভার]
The post অভিশপ্ত বাইপাসে ফের মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, মৃত শিবপুর আইআইইএসটির ছাত্র appeared first on Sangbad Pratidin.
