সমস্ত ধরনের মদের দাম বাড়িয়েছে রাজ্য আবগারি দপ্তর। ডিসেম্বর ১ তারিখ থেকেই বর্ধিত দাম কার্যকর হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই মাস অর্থাৎ ডিসেম্বরেই মদের বিক্রিতে ভাটা! তথ্য বলছে, বড়দিন, ৩১ ডিসেম্বর থাকা সত্ত্বেও বাংলাজুড়ে মদের বিক্রি একধাক্কায় ২০ শতাংশ কমে গিয়েছে। হঠাৎ এমন মদ বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে আবগারি দপ্তরের হাতে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট সামনে এসেছে। আর সেখানেই এই পরিসংখ্যান সামনে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।
গত নভেম্বর মাসে মদের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। সেই মতো নভেম্বর মাসেই এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবগারি দপ্তর। যেখানে ৭৫০ মিলিলিটার বিদেশি মদের বোতলে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়বে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি বোতল প্রতি ১০ টাকা দাম বৃদ্ধি করা হয় ১৮০ মিলিলিটারের ক্ষেত্রে। দেশি এবং অন্যান্য মদের (লাইসেন্স রয়েছে) ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা জানানো হয়। ধাপে ধাপে সেই শুল্ক চাপানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির তালিকা থেকে বিয়ারকে বাদ রাখা হয়।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে ১লা ডিসেম্বর থেকেই রাজ্যে বর্ধিত দাম কার্যকর হয়। ফলে ডিসেম্বর থেকেই বাড়তি দামে মদ কিনতে হয় ক্রেতাদের। আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মাস অর্থাৎ ডিসেম্বরে বাংলাজুড়ে ঠিক কত মদ বিক্রি হয়েছে সেই সংক্রান্ত হিসাব নিয়ে বসেন আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা। সেখানেই এহেন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। দেখা যায়, ২০ শতাংশের বেশি পরিমাণ মদ বিক্রি কমেছে নভেম্বরের মাসের তুলনায়।
তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ৪৮,২৩,৭,০৩১ বোতল দেশি মদ বিক্রি হয়েছে। যা গত নভেম্বরের মাসের বিক্রির তুলনায় ২৫ শতাংশ কম। এদিকে ১,২০,৫৯,২৫৭ বোতল মদ নভেম্বর মাসে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এই অবস্থা কেন, তা ইতিমধ্যে আবগারির দপ্তরের কর্তারা খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, যেখানে বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে রেকর্ড পরিমাণ মদ বিক্রি হয় রাজ্যে, সেখানে কেন উলাটপুরাণ। এর পিছনে মূল্যবৃদ্ধিই দায়ি! তাও নজরে রয়েছে কর্তাদের। তবে রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করছেন আবগারি দপ্তরের আধিকারিকরা।
