মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্রমশ গ্রাস করছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যান্ড কোং! পরিষদীয় দলের কায়দায় এবার কাউন্সিলরদেরও কার্যত নিজেদের শিবিরে টানছে 'আসল' তৃণমূল। সোমবার বিকেলে ঋতব্রতর নেতৃত্বে নিউটাউনের নামী পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ অধিবেশনে হাজির হলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের তৃণমূল কাউন্সিলররা। ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পুত্র তথা ৮৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৌরভ বসুও। তাতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত, মমতার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করল ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। ঘোষণা হল নতুন জাতীয় কর্মসমিতি। দ্রুতই রাজ্য কমিটিও গঠন হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করা হবে।
শেষবার ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হয়েছিল। তিনবছর পর তার মেয়াদ শেষে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় সেই কমিটি। দলের সাংবিধানিক সংকট কাটাতে তাই আজ তা নতুন করে গড়া হল।
সূত্রের খবর, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ রায়কে 'আসল' তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ। ৩০ জনকে নিয়ে নবগঠিত কমিটি সাধারণ সম্পাদক হলেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমিন। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আখরুজ্জামান আনসারি।
সূত্রের খবর, এখানে হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ রায়কে 'আসল' তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ। ৩০ জনকে নিয়ে নবগঠিত কমিটি সাধারণ সম্পাদক হলেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমিন। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আখরুজ্জামান আনসারি।এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে? যদিও বারবারই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলে এসেছেন, তৃণমূলনেত্রী পরামর্শদাতা হিসেবে থাকুন।
সূত্রের খবর, সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের পর দলের প্রাক্তন কাউন্সিলর, বিধায়ক-সহ ঋতব্রত শিবিরের সব নেতাকে বিকেলে পাঁচতারা হোটেলে হাজিরার জন্য হুইপ জারি করেছিলেন মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। সেইমতো বাজেটের পরই তাঁরা সেখানে পৌঁছে যান। বিশেষ অধিবেশনে দলের সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন হিসেবে অরূপ রায়ের নাম সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।
সোমবার নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনের ব্যানার আমূল বদলে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে ব্যানারে রয়েছে গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ, আম্বেদকরের ছবি। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক থাকলেও মমতা-অভিষেকের ছবি নেই। এদিনের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন তিন জেলার জনপ্রতিনিধিও। হাজির বীরভূমের কাজল শেখ, চন্দ্রনাথ সিনহা, অভিজিৎ সিনহা, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এঁরা সকলেই ৩০ জনের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য। মুর্শিদাবাদ, বহরমপুর, দমদম, উত্তরপাড়া-সহ একাধিক পুরসভার বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় কাউন্সিলর ও প্রাক্তন কাউন্সিলররা যোগ দিয়েছেন এদিন।
সূত্রের খবর, তার আগে দিল্লি থেকে আসা দুই আইনজীবী, যাঁরা রাজনৈতিক দল ও সংবিধান বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন ফিরহাদ হাকিম, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তহবিল সংক্রান্ত আলোচনা হয়।এনিয়ে বিশেষ অডিটর নিয়োগের ভাবনাচিন্তা করছেন নেতারা। এছাড়া নতুন পার্টি অফিস তৈরি হবে। তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাভেদ খানকে। ১০৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিজেপির আমলে তাঁদের উপর যে অত্যাচার চলছে, তার সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, প্রয়োজনে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সুরক্ষার জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করা হবে।
জানা গিয়েছে, সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের পর দলের প্রাক্তন কাউন্সিলর, বিধায়ক-সহ ঋতব্রত শিবিরের সব নেতাকে বিকেলে পাঁচতারা হোটেলে হাজিরার জন্য হুইপ জারি করেছিলেন মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। সেইমতো বাজেটের পরই তাঁরা সেখানে পৌঁছে যান। তবে দেখা যায়নি বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, অতীন ঘোষ, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপ বক্সিকে।
বিশেষ অধিবেশনে দলের সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন হিসেবে অরূপ রায়ের নাম সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়। অর্থাৎ যে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সনের চেয়ারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যেত, এবার সেই জায়গাতেই বসছেন হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের বিধায়ক। এছাড়া বিভিন্ন পদে ঋতব্রত শিবিরের একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ায় আরও স্পষ্ট হয়ে গেল 'আসল' তৃণমূলের শক্তি। বোঝা গেল ছাব্বিশের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ভরাডুবি কতটা দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে।
