সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সভাপতি পদ ছেড়েছেন অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato)। কারও বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ করেননি। তাঁর কথায় ক্ষোভ স্পষ্ট। সিনিয়র রেসিডেন্সিয়াল পোস্ট নেবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর তারপর সময় যত গড়াচ্ছে ততই ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের অন্দরের ফাটল চওড়া হচ্ছে। একসময়ের 'সহযোদ্ধা'র জোড়া সিদ্ধান্তে 'অপমানিত' আসফাকুল্লা নাইয়া (Asfakullah Naiya)। সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে সেকথাই উল্লেখ করেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় ফেটে পড়ে গোটা রাজ্য। পথে নেমে আন্দোলনে শামিল হন চিকিৎসক, চিকিৎসক পড়ুয়ারা। গড়ে ওঠে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। বর্তমানে অবশ্য অভয়া আন্দোলন স্তিমিত। অভয়া ফান্ড নিয়ে উঠেছে হাজারও প্রশ্ন। তারই মাঝে সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা অনিকেত মাহাতোর। সাংবাদিক বৈঠক করে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ নেবেন না। এই পোস্ট না নেওয়ার জন্য ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। সেই টাকা একার পক্ষে জোগাড়ের সামর্থ্য নেই অনিকেতের, তা জানিয়েছেন। সে কারণে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আর্জি জানান। তাতেই আপত্তি আসফাকুল্লার। দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন, "যদি সত্যিই ছাড়তে হত, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নিজেরাই ৩০ লাখ তুলে ফেলতে পারতাম,ব্যক্তি স্বার্থে সাধারণের কাছে হাত পাতার মতো ডিসিশন নেওয়ার আগে বন্ধুকে, বন্ধুদের জানাতে পারতে, এটা অপমানিত করেছে, বন্ধুত্বকে, অপমানিত করেছে ডাক্তারি সামাজিক সত্ত্বাকে।"
শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে অনিকেত বারবার দাবি করেছেন পদ ছাড়লেও আসফাকুল্লা, দেবাশিসদের মতো 'সহযোদ্ধা'দের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় থাকবে। আসফাকুল্লারও মত একই। তিনি লেখেন, "তোমার প্রতি সম্মান,তোমার মতামতের প্রতি সম্মান একই থাকবে, দ্বিমতও থাকবে।" ভবিষ্যতে আবারও কোনও আন্দোলনের মঞ্চে 'অনিকেতদা'র সঙ্গে আবার দেখা হবে বলেই আশাবাদী আসফাকুল্লা। তবে অনেকেরই প্রশ্ন, আসফাকুল্লা দীর্ঘ পোস্টে যা নিয়ে এত সমস্যা সেই অভয়া ফান্ড প্রসঙ্গে কেন একটি শব্দও উল্লেখ করলেন না তিনি।
