রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই খাঁ খাঁ করছে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর। ১ নম্বর থেকে ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সামনের এলাকা পুরোপুরি হকার মুক্ত। সাধারণ মানুষের চলাফেরার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। এই পদক্ষেপে স্বাগত জানালেন নিত্যযাত্রীরা।
শিয়ালদহ কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যাঙের ছাতা মতো একের পর এক অবৈধ স্টল গজিয়ে উঠছিল স্টেশন লাগোয়া এলাতায়। মূলত, তৃণমূল সরকারের আমলে ইউনিয়নের দাপট চলত ওই চত্বরে। হকারদের থেকে রুটিন তোলা নিয়ে স্টেশন চত্বরকে ঘিঞ্জি করে তোলা হচ্ছিল দিনের পর দিন। কিন্তু নতুন সরকার আসতেই শিয়ালদহ স্টেশনের সংলগ্ন এলাকা সেই ছবি উধাও। রবিবার সকালে কার্যত একটিও হকার দেখা গেল স্টেশনের গেটে। শিয়ালদহ ডিআরএম অফিস সূত্রে খবর, হকারদের আগেই উঠে যাওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। নোটিসে সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেই সময়ের মধ্যেই অনেকেই পসরা গুটিয়ে চলে গিয়েছেন। তবে যাঁরা জায়গা ছাড়তে টালবাহানা করছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও একটি নির্দিষ্ট ব্যারিকেড পর্যন্ত হকারদের বসতে দেওয়া না হলেও, ব্যারিকেডের বাইরে চেনা ছন্দেই চলছে হকারদের বেচাকেনা।
অন্যদিকে, শনিবার রাতে হাওড়া স্টেশনের বাইরে চলে বুলডোজার। ফুটপাথের প্রায় ১৫০ টি 'অবৈধ' স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যাত্রীদের সুবিধার্থেই এই উচ্ছেদ অভিযান বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এর আগেও নোটিস জারি করে হাওড়া স্টেশন এলাকা ফাঁকা করেছে রেল। তারপরেও হকারদের রমরমা দমানো যায়নি। যদিও শনিবার উচ্ছেদ অভিযানের আগেও হকারদের নোটিস দিয়ে উঠে যেতে সতর্ক করেছিল রেল। শনিবার রাতের অ্যাকশনে খুশি যাত্রীদের একাংশ। যদিও অনেকের মতে, হকারদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থার দিকটাও দেখুক নতুন সরকার।
