খেজুর গুড়ে ভয় নেই। যত আতঙ্ক খেজুর রসে। শহরে নিপা ভাইরাসের থাবা। বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে আক্রান্ত দু’জন। সূত্রের খবর, আক্রান্তরা খেজুরের রস খেয়েছিলেন তাঁরা। সেখান থেকেই ছড়িয়েছে নিপা ভাইরাস।
শীতের শহরে খেজুরের রস খাওয়ার হুড়োহুড়ি। এই প্রবণতা দেখে সাবধান হতে বলছেন চিকিৎসক থেকে ভাইরোলজিস্টরা। ভাইরাল অসুখ বিশেষজ্ঞ ড. সিদ্ধার্থ জোয়ারদার জানিয়েছেন, খেজুরের রস থেকে গুড় হয়ে গেলে আর ভয় থাকে না। কারণ, খেজুরের রস ফুটিয়ে গুড় তৈরি হয়। তাই গরমে নষ্ট হয়ে যায় ওই ভাইরাস। কিন্তু গাছ থেকে নামিয়ে আনা খেজুরের রসে নিপা ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা বিপুল। কারণ, রাতের অন্ধকারে খেজুর রসের লোভে বাদুর হানা দেয় গাছে গাছে। বিশেষ করে মৌলিরা যদি গাছের আশপাশে জাল না দেন। কারা এই মৌলি? মূলত যাঁরা খেজুর গাছের কাণ্ড কেটে নল লাগিয়ে দেন। ঝুলিয়ে দেন মাটির পাত্র। সে পাত্রে ফোটা ফোটা করে রস সংগ্রহ করা হয়। যাঁরা এই কাজটি করেন তাঁদেরই মৌলি বলা হয়।
ড. সিদ্ধার্থ জোয়ারদার জানিয়েছেন, এটা নিশ্চিত বাদুর এই খেজুর রসের লোভে মুখ দিয়েছিল ওই হাড়িতে। বাদুরের লালায় থাকে নিপা ভাইরাস। বাদুরের সেই এঁটো খেয়েই নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দু'জন। যদি গাছের চারপাশে জাল লাগানো হতো, তাহলে এমনটা হতো না বলেই মত ভাইরোলজিস্টের। তিনি সতর্ক করে বলেন, "বাদুর গাছ পাকা ফলেও মুখ দেয়। বাজার থেকে কেনা ফল সরাসরি খাবেন না। ভালো করে কলের জলে ধুয়ে নিন।" বিশেষ করে পেয়ারা, কুল, জামরুল, করমচা, আপেল, নাসপাতি, আঙুর, সবেদা খাওয়ার আগে সতর্ক হতে বলেছেন তিনি।
নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কীভাবে বোঝা যায়? চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্বর, মাথাব্যাথা, বমি বমি ভাব, প্রচন্ড গলা ব্যাথা শ্বাসকষ্ট নিপায় আক্রান্তদের প্রধান উপসর্গ। তবে আতঙ্কিত নয়, সতর্ক থাকতে বলছেন চিকিৎসকরা। সংক্রমিত ব্যক্তির লালা-হাঁচি-কাশির ড্রপলেট থেকে ছড়াতে পারে নিপা ভাইরাস। নিপা ভাইরাস বায়ু বাহিত নয়। হাওয়ায় তা ছড়ায় না।
