বিদ্যুৎ চলে গেলেও আর টানেলের মধ্যে ট্রেন আটকে থাকবে না। আতঙ্কে দমবন্ধ অবস্থা হবে যাত্রীদের। ব্লু লাইনে চালু হল ব্যাটারি ব্যাক আপ সিস্টেম। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে বা গ্রিডে সমস্যা হলে এই ব্যাটারিতে জমা থাকা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে। তার ফলে টানেলে আটকে পড়া মেট্রোকে পরবর্তী স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিমি গতিতে নিয়ে যাওয়া যাবে। এছাড়াও টানেলের ভেন্টিলেশন ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও চালু রাখা যাবে। বুধবার সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনে এই আধুনিক ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ভারতের মধ্যে এবং পূর্ব ভারতে এই ধরনের ব্যবস্থা এই প্রথম।
হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে বা গ্রিডে সমস্যা হলে এই ব্যাটারিতে জমা থাকা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে। তার ফলে টানেলে আটকে পড়া মেট্রোকে পরবর্তী স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ কিমি গতিতে নিয়ে যাওয়া যাবে। এছাড়াও টানেলের ভেন্টিলেশন ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও চালু রাখা যাবে।
বুধবার এই ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার এস. এস. মিশ্র এবং অন্যান্য আধিকারিকরা। এই কাজটি করল ডেল্টা ইলেকট্রনিক্স ইন্ডিয়া। সংস্থার নীরাঞ্জন নায়েক জানান, এই ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার সিস্টেমে ৬.৪ মেগাওয়াট-আওয়ার ক্ষমতার লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। মেট্রোর তরফে জানানো হয়েছে, এই ব্যাটারির আয়ু প্রায় ১৪ বছর। এটি পরিবেশবান্ধব এবং আগের ডিজেল জেনারেটরের তুলনায় কম দূষণ করে। পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং বিদ্যুৎ খরচও কমাবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের মতে, এই নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় যাত্রী নিরাপত্তা আরও বাড়বে এবং পরিষেবা আরও নির্ভরযোগ্য হবে। মূল লাইন থেকে বিদ্যুৎ চলে গেলেই ব্যাটারি সঙ্গে সঙ্গে মেট্রোকে পরিষেবা দেবে। আপাতত দক্ষিণেশ্বর থেকে টালিগঞ্জ (মহানায়ক উত্তম কুমার) পর্যন্ত এই পরিষেবা পাওয়া যাবে।
বলে রাখা ভালো, কবি সুভাষ স্টেশন বন্ধ হওয়ার পরে দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের মধ্যে চলছে মেট্রো। আর তারপর থেকে ব্লু লাইন (দক্ষিণেশ্বর-শহিদ ক্ষুদিরাম রুট) নিয়ে যাতায়াতকারীদের ক্ষোভের অন্ত নেই। এখন যেন ভোগান্তির নাম ব্লু লাইন। দেরিতে মেট্রো স্টেশনে পৌঁছনো, মেট্রোর দরজা বন্ধ না হওয়া, একাধিক স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার মতো নানা সমস্যায় জেরবার হতে হয় যাত্রীদের। তাঁদের দাবি, নয়া রুট উদ্বোধনের পর থেকে ব্লু লাইন যেন ‘দুয়োরানি’ হয়ে গিয়েছে। তার ফলে অত্যন্ত বিরক্ত যাত্রীরা। নয়া ব্য়বস্থায় আদৌ পরিষেবার উন্নতি হয় কিনা, সেটাই দেখার।
