কথায় বলে কারও পৌষমাস কারও সর্বনাশ। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল যত এগিয়ে আসছে, দলগুলির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বাড়ছে। আর পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে হাসি ফুটছে। কারণ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল-পুরোটাই ভারতে হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। ইডেনে সেমিফাইনাল হতে পারে, উজ্জ্বল হচ্ছে সেই আশাও।
ইডেনে কি সেমিফাইনাল আদৌ হবে? বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বহুদিন ধরেই এই প্রশ্নটা ঘোরাফেরা করছে। তবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আইসিসির বেশ কয়েকটি শর্ত মাথায় রাখা প্রয়োজন। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা জানিয়েছিল, পাকিস্তান যেহেতু ভারতে খেলবে না, তাই তারা সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে উঠলে সেই ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কাতে খেলা হবে। এছাড়াও বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসাবে ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ পাবে শ্রীলঙ্কা। সেইসঙ্গে ভারত যদি সেমিতে ওঠে তাহলে সেই ম্যাচটা অবশ্যই মুম্বইয়ে হবে।
এত সমস্ত যদি-কিন্তু পেরিয়ে ইডেনে সেমিফাইনাল আসাটা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছিল ক্রিকেটমহল। আবারও আইসিসির বঞ্চনা শিকার হল ক্রিকেটের নন্দনকানন, এটা ভেবে মনখারাপ হয়েছিল বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের। কিন্তু ক্রিকেটবিধাতা কি একদম অন্যরকম একটা চিত্রনাট্য ঠিক করে রেখেছেন ইডেনের জন্য? বিশ্লেষকমহল মনে করছে, বুধবারের ম্যাচের পর টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল ইডেনে হলেও হতে পারে। কারণ সেমির দৌড় থেকে ইতিমধ্যেই বিদায় নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সেইসঙ্গে পাকিস্তানের সামনে কঠিন অঙ্ক। শেষ ম্যাচ বিরাট ব্যবধানে জিততে না পারলে সেমিতে ওঠা হবে না পাকিস্তানের।
তাহলে শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াল? মহা অঘটন না ঘটলে বিশ্বকাপ সেমিতে উঠছে না পাকিস্তান। ফলে আইসিসির যাবতীয় শর্তের ইতি। শ্রীলঙ্কার ঘরের মাঠে খেলা বা পাকিস্তানের ভারতের মাটিতে না খেলা-কোনওটাই বিবেচিত হবে না। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ড উঠেছে সেমিতে। যদি ভারত শেষ চারে ওঠে, সেই ম্যাচ হবে ওয়াংখেড়েতে। তাহলে সম্ভবত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই খেলতে হবে সূর্যকুমার যাদবদের। সেক্ষেত্রে বাকি যে দুই দল সেমিতে উঠবে (যার মধ্যে একটা নিউজিল্যান্ড হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল), সেই ম্যাচটা ইডেনে হতে আইসিসির শর্ত অনুযায়ী কোনও বাধা নেই। তাহলে কি ক্রিকেট বিধাতার অঙ্গুলিহেলনে আগামী বুধবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের সাক্ষী থাকবে ইডেন?
