'আমার সুজি, আলুপোস্ত ফিরিয়ে দিন...'। একথা বলে আদালতে কেঁদেই ফেললেন বৃদ্ধা! সবাই অবাক। হচ্ছেটা কী? তাহলে খুলেই বলা যাক। আলুপোস্ত, সুজি, গোল্ডি আর টিল্ক। প্রথম দু'টি স্পিৎজ, শেষের দু'টি গোল্ডেন রিট্রিভার। সারাদিন এই চারজনকে নিয়েই পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটার ফ্ল্যাটে থাকতেন বৃদ্ধা বীণা মুখোপাধ্যায়। সারমেয়দের নিয়েই কেটে যেত তাঁর দিনরাত। কিন্তু গত বছরের বড়দিনে ঘটে গেল অঘটন।
পুলিশের সাহায্যে বৃদ্ধার চার পোষ্যকে নিয়ে যায় একটি সারমেয়প্রেমী সংস্থা। অভিযোগ উঠেছিল, কুকুরগুলির যত্ন নেন না পরিবারের লোকেরা। তাই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কুকুরগুলিকে আর ফেরত পাননি বৃদ্ধা। এবার তাদের ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হলেন বীণা মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি কাঁদতে কাঁদতেই শিয়ালদহ আদালতে বিচারককে আবেদন করে বলেন, "সন্তানের মতো বড় করেছি কুকুরগুলিকে। আমার সামনে তাদের নিয়ে চলে গেল! আপনি সুজি, আলুপোস্তদের দয়া করে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।"
বেলেঘাটার বৃদ্ধা বীণা মুখোপাধ্যায়ের চার পোষ্য। নিজস্ব ছবি
যদিও বৃদ্ধার অভিযোগ যে সংস্থাটির বিরুদ্ধে, সেই সংস্থার কর্ণধার হৃষিতা দে জানান, বেলেঘাটার বাসিন্দাদের কাছ থেকেই অভিযোগ আসে যে কুকুরগুলির অযত্ন হচ্ছে। প্রথমে তাঁরা জানতেন যে, ওই বাড়িতে দু'টি গোল্ডেন রিট্রিভার রয়েছে। পরে বেলেঘাটা থানার পুলিশের সাহায্য নিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, বাড়িতে আরও দু'টি স্পিৎজ রয়েছে। কুকুরগুলিকে তাঁরা অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাদের শরীরে উকুনজাতীয় পোকা ছিল। অপুষ্টি, রক্তাল্পতায় ভুগছিল হারিয়ে যাওয়া সেই পোষ্য। তাদের চিকিৎসা করা হয়।
এখন তারা ভালো আছে। চারজন কুকুরপ্রেমী আলুপোস্ত, সুজি, গোল্ডি আর টিল্ককে দত্তক নিয়েছেন। এদিকে, নিজের প্রাণপ্রিয় পোষ্যদের ফেরত চেয়ে শিয়ালদহ আদালতে আবেদন জানান বৃদ্ধা বীণা মুখোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবী বেদরাজ চট্টোপাধ্যায় আবেদনে জানান, কোনও আইন না মেনেই বৃদ্ধার কাছ থেকে তাঁর পোষ্যগুলিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও মামলাও দায়ের করেনি। শুধুমাত্র জেনারেল ডায়েরি হয়েছিল। কুকুরগুলিকে তাঁদের মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার আবেদন জানান আইনজীবী। বিচারক সারমেয়গুলির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। বিচারক বৃদ্ধার আইনজীবীকে নির্দেশ দেন, তাঁদের হলফনামা দিতে হবে যে, তাঁরা পোষ্যগুলিকে ভালোভাবে রাখবেন। পরের সপ্তাহে এই মামলার শুনানি।
বেলেঘাটা মেন রোডের একটি বহুতলের ফ্ল্যাটে সারমেয়গুলিকে নিয়ে থাকতেন বৃদ্ধা বীণা ও তাঁর ছেলে শ্যামল মুখোপাধ্যায়। বৃদ্ধা জানান, প্রথমে দু'টি গোল্ডেন রিট্রিভার ও পরে তাঁরা দু'টি স্পিৎজ কিনে আনেন। তাদের টিকা দেওয়া হয়। বৃদ্ধা নিজেই তাদের খাইয়ে দিতেন। তাদের সারাক্ষণ সময় দিতেন। পরিবারে কুকুরগুলি ভালোই ছিল। যদিও হৃষিকা দে দাবি করেন, ওই কুকুরগুলির যত্ন নেওয়া হত না। তাদের খাঁচার ভিতর বন্দি করে রাখা হত। অস্বস্তির কারণে তারা চিৎকারও করত। এদিকে, বৃদ্ধার পরিবারের লোকেদের দাবি, কুকুরগুলির লোমে পোকা হয়েছিল। তখন তাদের চিকিৎসককে দেখানো হয়। পোষ্যদের লোম কেটে ফেলা হয়। তাই তাদের অসুস্থ বলে মনে হচ্ছিল। এদিকে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই চার সারমেয়র ব্যাপারে শিয়ালদহ এসিজেএম আদালতে রিপোর্ট পেশ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
