কলকাতার নামজাদা পুজোর অন্যতম। রজত জয়ন্তীতে পুজোপ্রেমীদের চমক দিয়েছিল বেলেঘাটা ৩৩ পল্লি। এই ক্লাবের হাত ধরেই প্রথমবার পুজোর আঙিনায় নাম জোড়ে প্রখ্যাত শিল্পী গণেশ হালুইয়ের। অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের প্রয়োজনকে মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছিলেন শিল্পী। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর সেই পুজোরই অস্তিত্ব সংকটে! পুজোর আর মেরেকেটে তিন মাস বাকি। অথচ পুজোর প্রস্তুতি তো দূর অস্ত, খুঁটিপুজোরও কোনও নামগন্ধ নেই ক্লাবে। পুজোর উদ্যোক্তা জানাচ্ছেন, পুজো বন্ধ করতে চেয়ে তাঁকে রীতিমতো মারধর করা হয়েছে। বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে তৃণমূল আশ্রিতরা!
ঘটনাটি ঠিক কী? আসলে বেলেঘাটা ৩৩ পল্লির এবার ২৬-এ পা। পরিকল্পনা ছিল, গতবারের শিল্পী শিবশংকর পাল এবারও মণ্ডপ সজ্জার গুরুভার নেবেন। সেভাবেই কথাবার্তা এগিয়েছিল। প্রতিবার রথ আর উলটোরথের মাঝামাঝি সময়ই ধুমধাম করে হয় খুঁটিপুজোও। সে পালেও হাওয়া লাগতে শুরু করেছিল। কিন্তু তাল কাটল চলতি মাসের মাসের শুরুতেই। পুজোর সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত সাহার অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সদস্য তাঁকে রাস্তা বন্ধ করে পুজো আয়োজন বন্ধ করতে হুমকি দেন। তবে শুধু হুমকিতেই থামেননি তাঁরা। সুশান্তকে মারধরও করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। চোখের মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন তিনি। এমনকী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেলেঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বেলেঘাটা ৩৩ পল্লির গতবারের পুজো
সুশান্ত সাহার কথায়, "আমাদের রাস্তার উপর পুজো হয় ঠিকই। দু-চারটে বাড়ির সদস্যদের যাতায়াতের পথ তাতে খানিকটা সরু হয়ে যায়। কিন্তু পুজোর জন্য় কখনওই অ্যাম্বুল্যান্স কিংবা জরুরি পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটে না। তা সত্ত্বেও যারা ৪ মে'র পর রাতারাতি নিজেদের বিজেপি বলে দাবি করে, তারাই পুজোয় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আমার চোখের অবস্থা দুর্বিসহ। কিন্তু তার চেয়েও চিন্তায় আছি পুজোটা নিয়ে।" ইতিমধ্যেই বিজেপি বিধায়ক সুজল ঘোষ ও তাপস রায়কে পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। তাঁদের তরফে আশ্বস্তও করা হয়েছে। তবু শঙ্কা আর সংশয় কাটছে না। হাজার হাজার মানুষ যেখানে পুজোর পাঁচটা দিন ভিড়, সেই পুজো মণ্ডপ এবার দিনের আলো দেখতে পাবে কিনা, বুঝতেই পারছে না ক্লাব।
হতাশার সুর শিল্পী শিবশংকরের গলাতেও। বলছেন, "এবার শুধুমাত্র এই পুজোটাই ভালো করে করার কথা ছিল। তাই একাধিক প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে বেলেঘাটা ৩৩ পল্লির পুজোর ভবিষ্যৎ একেবারেই অনিশ্চয়তায় মোড়া। ফলে আমিও সমস্যায় পড়েছি।" এহেন অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারে প্রশাসনই। তাই সেই শুভেন্দু সরকারেরই মুখাপেক্ষী দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তারা।
