এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানির শেষ নেই। ছোট ছোট বিষয়ে মানুষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এমনকী শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল। এবার এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেলেন পরিবহণ সচিব সৌমিত্র মোহন। আগামী ২৫ জানুয়ারি তাঁকে নির্দিষ্ট নথিপত্র নিয়ে এপিজে আব্দুল কালাম কলেজে তলব করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে বাংলায় চলা এসআইআর শুনানিতে শাসকদলের একাধিক বিধায়ক, নেতা এবং তাঁদের পরিবারকে তলব করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিনেতা দেব, ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। বাদ যাননি নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, সাহিত্যিক জয় গোস্বামীরাও। এবার সেই তালিকা খোদ পরিবহণ সচিব সৌমিত্র মোহন। জানা গিয়েছে, রাজ্য প্রশাসনের এই আধিকারিক নিউটাউন বিধানসভার ভোটার। কমিশনের পাঠানো নোটিস অনুযায়ী, ২০০২ সালের বাবার আগের নামের সঙ্গে এখনকার ইলেকটোরাল রোলে নামের পার্থক্য রয়েছে। আর সেই কারণেই সৌমিত্র মোহনকে শুনানির নোটিস করা হয়েছে বলে খবর। আগামী ২৫ জানুয়ারি তাঁকে তলব করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পরিবহণ সচিবের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবহণ সচিব সৌমিত্র মোহনকে পাঠানো নোটিস।
বলে রাখা প্রয়োজন, বাংলায় চলা এসআইআর নিয়ে আজ বৃহস্পতিবারই সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে তিনি বলেন, ''বাংলায় এসআইআর চলছে। ইতিমধ্যে ১১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মানুষের হয়রানির কথাটাও মনে রাখতে হবে। শুনানিতে পাঁচ-ছঘণ্টা করে লাইন দিতে হচ্ছে।” একইসঙ্গে লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি নিয়েও সরব হন প্রশাসনিক প্রধান। তিনি বলেন, ”লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি কোনওদিন এসআইআরে ছিল না। একমাত্র এই রাজ্যেই হচ্ছে। অন্য কোথাও হচ্ছে না। ডার্কলিস্ট, ফাইনাল লিস্ট বের হওয়ার পর যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাঁরা যাবেন।” একই সঙ্গে মানুষকে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
