ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে একেবারে অন্তরালে ব্রাত্য বসু। কালীঘাটের তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ডাকা কোনও বৈঠকেও নাকি দেখা যায়নি তাঁকে। শোনা যাচ্ছে, সেই ব্রাত্যও নাকি এবার হাত ধরতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। যদিও খোদ ব্রাত্যর তরফে এখনও এই গুঞ্জনে কোনও সিলমোহর পড়েনি।
ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে দলত্যাগের হিড়িক ওঠে। জুনের প্রথম দিকে রাজ্যসভা থেকে পরপর ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক। সেসময় কোয়েলও নিজের ইস্তফাপত্র ইমেলের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন বলে খবর। কিন্তু সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেননি উপ রাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ। কোয়েলকে সশরীরে সংসদে দেখা করার নির্দেশ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে নিজের ইস্তফাপত্র হাতে নিয়ে কোয়েল দেখা করেন চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে। ১৬ জুলাই, মাত্র ২ মাস ১০ দিনের মধ্যেই তাঁর এই ইস্তফা। পদ ছেড়েই এদিন তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ সাংগঠনিক নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছেন।
তার কয়েক ঘণ্টা পরই বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে মমতা বলেন, “যাদের যাদের যাওয়ার আছে বিজেপির চাপে, পুলিশ, ইডি, সিবিআই, সিআইডি, আইসি, ওসি, এসটিএফ, মামলার চাপে। তাদের হাতজোড় করে বলব যাদের যাদের যাওয়ার আছে ২১ জুলাইয়ের আগে যার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, লোটাকম্বল নিয়ে চলে যান। দয়া করে আমরা যে দল তৈরি করেছি, তাকে কলুষিত করবেন না। আপনি দল ছাড়তেই পারেন, তাতে আমরা দুর্বল হব না।” এই চাপানউতোর মাঝেই আবার শোনা যাচ্ছে ব্রাত্যও নাকি ঋতব্রত শিবিরের দিকেই ঝুঁকেছেন। শুধু তাই নয়, রাজারহাটের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং জঙ্গলমহলের মানবাজারের অত্যন্ত প্রভাবশালী আদিবাসী মুখ সন্ধ্যারানি টুডুও নাকি যোগ দিতে পারেন ঋতব্রত শিবিরে। এদিকে, আবার বিরোধী দলনেতা দাবি করেছেন 'কালীঘাট তৃণমূলে' আরও ভাঙন হবে। আর কেউ দলত্যাগ কিংবা শিবির বদল করেন কিনা, সেটাই এখন দেখার।
