সাতসকালে তপসিয়ায় বড়সড় দুর্ঘটনা। চাকা ফেটে উলটে গেল যাত্রীবাহী বাস! আহত বাসের অন্তত ১৬ যাত্রী। দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে সরকারি বাসটি। মঙ্গলবার সকালে এই দুর্ঘটনার জেরে কসবা মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বেশ যানজট তৈরি হয়। পরে অবশ্য ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কার হয়ে ফের স্বাভাবিক হয়েছে যান চলাচল। তবে এই দুর্ঘটনার পর গুরুতর প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও রাস্তায় নেমেছিল দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি। প্রশ্ন উঠছে, সরকারি বাসের ক্ষেত্রে এমনটা সম্ভব কীভাবে? সাধারণ যাত্রীদের জীবন নিয়ে এতটা ঝুঁকি কেন?
সরকারি বাসের চাকা ফেটে দুর্ঘটনা, দুমড়েমুচড়ে যায় বাসটি। ছবি: অরিজিৎ সাহা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ তপসিয়ার কাছে হাওড়া-বারুইপুরগামী রুটের একটি সরকারি বাস আচমকা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রচণ্ড শব্দে বাসের সামনের একটি চাকা ফেটে যায়। তার জেরে যাত্রীদের নিয়ে উলটে যায় বাসটি। প্রায় ১৬ জন যাত্রী ছিলেন বাসে। তাঁরা সকলেই আহত হয়েছেন বলে খবর। সকলকে উদ্ধার করে পাশের চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এক যাত্রী জানিয়েছেন, ''বাস ধরতে যাব বলে ওদিকেই যাচ্ছিলাম। কিন্তু মোড়ের কাছে যেতেই শুনলাম যে বাসটা দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। চাকা ফেটে গিয়েছে, যাত্রীরা সব আহত। বুঝলাম যে রাস্তায় যানজট হবে, সমস্যা হবে।''
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসের ভিতরের অংশ। ছবি: অরিজিৎ সাহা।
খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি রাস্তায় নামার মতো 'ফিট' ছিল না। তার ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও হাওড়া-বারুইপুরের মতো দীর্ঘ রুটে কীভাবে বাসটি চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই কারণেই তার চাকা ফেটে দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করতে চলেছে। এছাড়া ফিটনেস ছাড়া বেআইনিভাবে ঝুঁকির সঙ্গে যাত্রী নিয়ে চলাচলের অভিযোগেও পথ সুরক্ষা আইনে পৃথক মামলা হওয়ার সম্ভাবনা।
