চন্দ্রকোনা মামলায় সাময়িক স্বস্তি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশ, আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় রাজ্য ও সিএপিএফের কাছে রিপোর্ট চাইল আদালত।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশ, আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।
ঘটনার সূত্রপাত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। পুরুলিয়ার জনসভা সেরে মেদিনীপুরের দিকে যাচ্ছিলেন শুভেন্দু। ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে ফেরার সময় চন্দ্রকোনা রোডের সাতবাঁকুড়ায় তৃণমূলের অঞ্চল অফিসের সামনে তাঁর কনভয়ে হামলা হয় বলে অভিযোগ। শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূলের প্রায় ২০জন দুষ্কৃতী বাঁশ-লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হন। ওই ঘটনার পর শুভেন্দু গাড়ি ঘুরিয়ে সটান হাজির হন চন্দ্রকোনা রোড ফাঁড়িতে। সেখানে ফাঁড়ি ইনচার্জের সামনেই মেঝেতে বসে পড়েন। সাফ জানান, যতক্ষণ না দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে ততক্ষণ তিনি উঠবেন না। ফাঁড়ি ইনচার্জ শুভেন্দুকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বললেও, অবস্থান থেকে উঠতে রাজি হননি বিরোধী দলনেতা। দীর্ঘক্ষণ পর ফাঁড়ি থেকে বের হন শুভেন্দু। সেই ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পরবর্তীতে হামলার ঘটনায় সিবিআই তদন্তের আর্জি নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন শুভেন্দু।
বুধবার হাই কোর্টে ছিল চন্দ্রকোনা সংক্রান্ত মামলার শুনানি। সেখানে বিরোধী দলনেতার আইনজীবী বলেন, "বিরোধী দলনেতা পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে তাঁর গাড়ির উপর হামলা হয়। গাড়ির উপর পেট্রোল ছোঁড়া হয়। তাঁকে মারার চেষ্টা করা হয়। বিরোধী দলনেতা নিজে একটা 307 ধারায় মামলা করেন যেটা নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। অথচ পরের দিন তাঁর বিরুদ্ধে ও একইধারায় মামলা দায়ের হয় যা নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ায় হয়।" রাজ্য ও বিরোধী দলনেতার আইনজীবী বক্তব্য শুনে শুভেন্দু অধিকারীকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেন বিচারপতি। তবে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৯ জানুয়ারি। ওইদিন রাজ্য ও সিএপিএফকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
