নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে আর জি কর, একাধিক মামলায় রায়দানের পর বিচারক বা বিচারপতিদের নির্দেশ নিয়ে সমাজমাধ্যমে কাটাছেঁড়া ও বিশ্লেষণ হয়। শুধু তাই নয়, এই সব রায়ের প্রেক্ষিতে কু-কথা, সংশ্লিষ্ট বিচারককে নিয়ে কটূক্তির বন্যাতেও ভেসে যায় সমাজমাধ্যম। এই সব ক্ষেত্রে বিচারক এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্টের মোকাবিলায় কোনও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) আছে কি না, তা জানতে চাইল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতে চলা এই সংক্রান্ত একটি মামলা কথিত মানহানিকর ইউটিউব ভিডিওগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার পর রাজ্য পুলিশের কাছে এই জবাব তলব করেছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ জুন।
মহারাজ স্বামী প্রদীপ্তানন্দ ওরফে কার্তিক মহারাজের দায়ের করা এক আবেদনের শুনানিতে ২১ মে, আদালত নথিভুক্ত করেছে যে, বিচারাধীন মামলার প্রসঙ্গে কিছু ইউটিউব ভিডিওতে কলকাতা হাই কোর্টের বেঞ্চ ও বিচারপতিদের বিরুদ্ধে 'ইচ্ছাকৃত কটাক্ষ' করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি সেনগুপ্তের মন্তব্য, যেদিন এই বেঞ্চ বসেইনি, সেদিনও এমন কিছু ইঙ্গিত করা হয়েছে যেন বন্ধ দরজার আড়ালে কোনও বিরূপ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, এই আদালতের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে সাধারণভাবে মানহানিকর ও আদালত অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। আরও কিছু ভিডিও ছিল যা সত্যিই অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মনে করেছে আদালত।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাতে জানতে চাওয়া হয়েছে, অত্যন্ত আপত্তিকর, স্পষ্টত মিথ্যা ও আদালত অবমাননাকর সোশাল মিডিয়া পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশের কোনও এসওপি আছে কি না? এই ধরনের কনটেন্ট সোশাল মিডিয়া থেকে সরানোর কোনও ব্যবস্থা আছে কি না?
