বেলডাঙায় চলা অশান্তির ঘটনায় উদ্বিগ্ন কলকাতা হাই কোর্ট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসপি এবং ডিএমকে যাবতীয় পদক্ষেপের নির্দেশ। শুধু তাই নয়, মুর্শিদাবাদে মোতায়েন করা কেন্দ্রীয় বাহিনী বেলডাঙার জন্য ব্যবহার করা যাবে বলেও নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের। তবে এনআইএ তদন্ত নিয়ে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রই নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। তবে এদিন মামলার শুনানিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে হাই কোর্ট।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানান, ফোর্সের ব্যবহার নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্র বিপরীত আচরণ করছে। যেভাবে ধারাবাহিকভাবে হিংসার ঘটনা ঘটছে মুর্শিদাবাদে তাতে আদালত উদ্বিগ্ন। এমনকী মানুষের জীবন এবং সম্পতি নিয়ে আদালত চিন্তিত বলেও মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
ঝাড়খণ্ডে শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে দিন কয়েক আগে উত্তাল হয়ে ওঠে বেলডাঙা। উত্তেজিত জনতা পথ ও ট্রেন অবরোধ শুরু করে। ভাঙচুরও চলে। শুক্রবারের পর শনিবারও উত্তপ্ত হয়ে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক অবরোধ, ট্রেন অবরোধ, ভাঙচুর থেকে সাংবাদিকদের মারধর, দিনভর উত্তপ্ত ছিল এই এলাকা। সেই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন চেয়ে মামলা হয় কলকাতা হাই কোর্টে। মামলা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আরও একটি মামলা হয় এনআইএ তদন্ত চেয়ে। আজ মঙ্গলবার দুটি মামলারই শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে।
মামলার শুনানিতে শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বলেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ঘটনায় প্রতিবাদের নামে একাধিক সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকী সাংবাদিককেও মারধর করা হয়েছে আদালতে জানান আইনজীবী। মুর্শিদাবাদের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মামলাকারী আইনজীবী আরও জানান, গত বছর জুলাই মাসে একই ধরণের ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হয়েছিল। মুর্শিদাবাদেই বাহিনী রয়েছে। কিন্তু তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে না আদালতে অভিযোগ জানান আইনজীবী।
এক্ষেত্রে রাজ্যের তরফে পদক্ষেপ কি নেওয়া হয়েছে তা জানতে চান প্রধান বিচারপতি। মামলার শুনানিতে পালটা রাজ্যের আইনজীবী জানান, এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ৫০০ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘর ছাড়াদের বাড়ি ফেরানো হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকী ঘটনা শুক্রবার হয়েছিল কিনা তাও জানতে চান প্রধান বিচারপতি। সমস্ত পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসপি এবং ডিএমকে যাবতীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী বেলডাঙায় ব্যবহার করা যাবে বলেও নির্দেশে জানিয়েছে হাই কোর্ট।
